ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন ২০২৬-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হচ্ছে নতুন ধারাবাহিক নাটক জনপদের খবর অর্থনৈতিক চাপ সামরিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি: আইআরজিসি ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি (২৪ আগস্ট ২০২৬) আশুলিয়ায় প্রতারক ও অপহরণকারী চক্রের দুই নারীসহ ৫ সদস্য আটক নির্ধারিত দামে সার বিক্রির নির্দেশ বিএফএর: নীতিমালা ভাঙলে ডিলারশিপ বাতিলের হুঁশিয়ারি মেসির গোলে আশা জাগিয়েও হার: টানা এক মাস জয়হীন ইন্টার মায়ামি আজ বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শ্রদ্ধা ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তিতে বুড়িগঙ্গায় জমজমাট নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়ায় শেখ হাসিনার পতন হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মৌচাকে ফুট ওভারব্রিজের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, দীর্ঘ যানজট পবিত্র জুমার গুরুত্ব, বিশেষ ফজিলত ও হাদিস অনুযায়ী করণীয় আমল

কালিয়াকৈরে বিনোদনের আড়ালে ক্যারাম ও অনলাইন জুয়া, বিপথগামী তরুণ সমাজ

কালিয়াকৈরে চায়ের দোকানে ক্যারাম ও অনলাইন জুয়ার আসর, বিপথে তরুণরা | জনপদের খবর

শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর):

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় বিনোদনের আড়ালে চায়ের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে রমরমা ক্যারাম বাজি ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া। এর করাল গ্রাসে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ পরিবার এবং বিপথগামী হয়ে পড়ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় তরুণ প্রজন্ম।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক, কালিয়াকৈর সদর ও রামচন্দ্রপুরসহ বিভিন্ন বাজার ও গ্রামীণ এলাকার প্রায় ৮০টিরও বেশি চায়ের দোকানে ক্যারাম বোর্ড বসানো হয়েছে। বিশেষ করে চন্দ্রা বাজার, সফিপুর বাজার, কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ড এবং তেলিপাড়া এলাকায় সকাল ১০টা থেকে গভীর রাত ২টা পর্যন্ত চলে এসব আসর। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ খেলা মনে হলেও প্রতিটি গেমে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাজি ধরা হচ্ছে। হার-জিতের এই নেশায় পড়ে কিশোর ও যুবকরা সর্বস্ব হারাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্যারাম বোর্ডের পাশাপাশি অনেক দোকানে স্মার্টফোনের মাধ্যমে অবৈধ অনলাইন জুয়া ও অনলাইন ক্যাসিনো খেলার আসরও পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা টিফিনের টাকা ও পরিবারের প্রয়োজনীয় অর্থ এনে এসব খেলায় খোয়াচ্ছে।

কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের এক শিক্ষক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অনেক নিয়মিত ও মেধাবী শিক্ষার্থী এখন ক্লাসে অনুপস্থিত থাকছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারা স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে চন্দ্রা ও সফিপুরের বিভিন্ন চায়ের দোকানে ক্যারাম বাজি ও মোবাইলে বুঁদ হয়ে সময় কাটাচ্ছে। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় ধরনের অশনিসংকেত। স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, দ্রুত এসব আস্তানা বন্ধ করা না হলে এলাকায় কিশোর অপরাধ, সামাজিক অবক্ষয় ও চুরি-ছিনতাই আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাবে।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, চায়ের দোকানে ক্যারাম খেলার আড়ালে জুয়া ও বাজির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করা হচ্ছে। জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান কঠোর উল্লেখ করে তিনি বলেন, খুব দ্রুত উপজেলার প্রতিটি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। যেখানেই অনিয়ম বা জুয়ার প্রমাণ মিলবে, সেখান থেকেই বোর্ড জব্দসহ জড়িতদের আইনের আওতায় এনে জেল-জরিমানা নিশ্চিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড সামাজিক পরিবেশ ও তরুণদের জীবন নষ্ট করছে। জুয়ার পৃষ্ঠপোষক ও আয়োজকদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কালিয়াকৈরকে অপরাধমুক্ত রাখতে উপজেলা প্রশাসন সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন ২০২৬-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা

কালিয়াকৈরে বিনোদনের আড়ালে ক্যারাম ও অনলাইন জুয়া, বিপথগামী তরুণ সমাজ

আপডেট সময় : ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর):

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় বিনোদনের আড়ালে চায়ের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে রমরমা ক্যারাম বাজি ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া। এর করাল গ্রাসে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ পরিবার এবং বিপথগামী হয়ে পড়ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় তরুণ প্রজন্ম।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক, কালিয়াকৈর সদর ও রামচন্দ্রপুরসহ বিভিন্ন বাজার ও গ্রামীণ এলাকার প্রায় ৮০টিরও বেশি চায়ের দোকানে ক্যারাম বোর্ড বসানো হয়েছে। বিশেষ করে চন্দ্রা বাজার, সফিপুর বাজার, কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ড এবং তেলিপাড়া এলাকায় সকাল ১০টা থেকে গভীর রাত ২টা পর্যন্ত চলে এসব আসর। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ খেলা মনে হলেও প্রতিটি গেমে ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাজি ধরা হচ্ছে। হার-জিতের এই নেশায় পড়ে কিশোর ও যুবকরা সর্বস্ব হারাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্যারাম বোর্ডের পাশাপাশি অনেক দোকানে স্মার্টফোনের মাধ্যমে অবৈধ অনলাইন জুয়া ও অনলাইন ক্যাসিনো খেলার আসরও পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা টিফিনের টাকা ও পরিবারের প্রয়োজনীয় অর্থ এনে এসব খেলায় খোয়াচ্ছে।

কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের এক শিক্ষক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অনেক নিয়মিত ও মেধাবী শিক্ষার্থী এখন ক্লাসে অনুপস্থিত থাকছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তারা স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে চন্দ্রা ও সফিপুরের বিভিন্ন চায়ের দোকানে ক্যারাম বাজি ও মোবাইলে বুঁদ হয়ে সময় কাটাচ্ছে। এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় ধরনের অশনিসংকেত। স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, দ্রুত এসব আস্তানা বন্ধ করা না হলে এলাকায় কিশোর অপরাধ, সামাজিক অবক্ষয় ও চুরি-ছিনতাই আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাবে।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, চায়ের দোকানে ক্যারাম খেলার আড়ালে জুয়া ও বাজির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করা হচ্ছে। জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান কঠোর উল্লেখ করে তিনি বলেন, খুব দ্রুত উপজেলার প্রতিটি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। যেখানেই অনিয়ম বা জুয়ার প্রমাণ মিলবে, সেখান থেকেই বোর্ড জব্দসহ জড়িতদের আইনের আওতায় এনে জেল-জরিমানা নিশ্চিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, এ ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড সামাজিক পরিবেশ ও তরুণদের জীবন নষ্ট করছে। জুয়ার পৃষ্ঠপোষক ও আয়োজকদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কালিয়াকৈরকে অপরাধমুক্ত রাখতে উপজেলা প্রশাসন সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।