নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
ঘুম থেকে উঠেই অলসতা কাটাতে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম ব্ল্যাক কফিতে চুমুক দেওয়া অনেকেরই প্রতিদিনের চেনা অভ্যাস। তবে সকালের এই প্রথম চুমুকটিই আপনার অজান্তে বাড়িয়ে দিতে পারে উদ্বেগ, অস্থিরতা ও মানসিক চাপ। সম্প্রতি স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করার এই অভ্যাস নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি পেটে কফি পান করলে ক্যাফেইনের নেতিবাচক প্রভাব শরীরের ওপর খুব দ্রুত পড়ে, যা অনেকের ক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
খালি পেটে ক্যাফেইন দ্রুত শোষিত হয় কেন?
চিকিৎসকেরা জানান, পাকস্থলীতে কোনো খাবার না থাকা অবস্থায় ব্ল্যাক কফি পান করলে এর ক্যাফেইন উপাদান অত্যন্ত দ্রুত রক্তপ্রবাহে মিশে যায়। ফলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র হঠাৎ করেই অতিরিক্ত মাত্রায় উদ্দীপিত হয়ে পড়ে।
এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের হৃদস্পন্দনে। অতিরিক্ত উদ্দীপনার কারণে হঠাৎ বুক ধড়ফড় করা, হাত কাঁপা, তীব্র ছটফটানি বা অস্থিরতা এবং অযাচিত উদ্বেগের মতো নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যারা প্রাকৃতিকভাবেই ক্যাফেইনের প্রতি কিছুটা সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাগুলো আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।
সকালের কর্টিসল এবং কফির মেলবন্ধন
আমাদের শরীর নিজেই এক অদ্ভুত নিয়মে চলে। ঘুম থেকে ওঠার প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে শরীরে প্রাকৃতিকভাবেই ‘স্ট্রেস হরমোন’ বা কর্টিসলের মাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে, যা আমাদের ঘুম ভাঙাতে ও সতেজ করতে সাহায্য করে।
এই প্রাকৃতিক নিয়মের মাঝে খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পান করলে ক্যাফেইন কর্টিসলের কার্যকারিতাকে কৃত্রিমভাবে আরও বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ হরমোনাল চাপ তৈরি হয়, যা মনকে শান্ত রাখার বদলে অস্থির ও উদ্বেগগ্রস্ত করে তোলে।
খাবার না থাকলে কেন বাড়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া?
খাবার খাওয়ার পর কফি পান করলে খাবারে থাকা প্রোটিন, ফ্যাট বা জটিল শর্করা ক্যাফেইনের শোষণ প্রক্রিয়াকে ধীরগতির করে দেয়। কিন্তু খালি পেটে এই প্রতিরোধকগুলো থাকে না। ফলে ক্যাফেইন দ্রুত মাথায় পৌঁছে আমাদের শরীরকে শান্ত রাখার রাসায়নিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এতে কাজের সাময়িক সতর্কতা বাড়লেও, দিনশেষে হাত কাঁপা ও স্নায়বিক দুর্বলতার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
কফি ছাড়ার প্রয়োজন নেই, বদলাতে হবে অভ্যাস
তবে কফিপ্রেমীদের জন্য আশার কথা হলো, বিশেষজ্ঞরা কিন্তু কফি পুরোপুরি বাদ দিতে বলছেন না। কেবল পানের সময়ে কিছুটা পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিচ্ছেন।
- সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সকালের পুষ্টিকর নাশতা শেষ করার পর কফি পান করা।
- যদি ভারী নাশতা করার সময় না থাকে, তবে অন্তত সামান্য কিছু খাবার—যেমন ফল, ভেজানো বাদাম, দই বা এক টুকরো টোস্ট বিস্কুট খেয়ে নিয়ে তারপর কফি পান করুন। এতে ক্যাফেইন শরীরে ধীরে ধীরে শোষিত হবে এবং এর কোনো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকবে না।
যাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন
যারা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপ, ডিপ্রেশন, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা প্যানিক অ্যাটাকের মতো সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য খালি পেটে ব্ল্যাক কফি এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। ক্যাফেইন তাদের সংবেদনশীল স্নায়ুকে আরও বেশি উত্তেজিত করে তুলতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনটি কেবল সাধারণ জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই পেশাদার চিকিৎসকের বিকল্প নয়। দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগ, অতিরিক্ত হৃদস্পন্দন বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা থাকলে অবশ্যই একজন নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মোঃ আল আমিন কাজী 


















