ঢাকা , শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালপুরে ‘স্টপ ড্রাগস, স্টার্ট রানিং’ ম্যারাথন: মাদক ও মোবাইল আসক্তি রুখতে ২৫০ অ্যাথলেটের দৌড় বিশ্বকাপ ফাইনালের মহারণ: চেনা রূপ ও ঐতিহ্যবাহী জার্সিতেই মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন খালি পেটে ব্ল্যাক কফি পানের অভ্যাস কি ডেকে আনছে মানসিক চাপ ও অস্থিরতা? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব প্রস্তুতি রয়েছে, চকরিয়ায় ত্রাণ বিতরণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহরাস্তিতে গৃহবধূ মিম হ*ত্যা: ডাকাতির নাটক সাজিয়েছিলেন ছোট জা, আদালতে স্বীকারোক্তি বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সরবরাহ সংকট: বাজারে সবজি, মাছ ও মুরগির দামে আগুন মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধ উত্তেজনা: হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান, মার্কিন হামলার পর পাল্টা আঘাতের হিড়িক ফুটবল বিশ্বকাপ জয়ে নতুন চমক: ট্রফি-মেডেলের পাশাপাশি এবার মিলবে ‘চ্যাম্পিয়নশিপ রিং’ ১৭ জুলাই ২০২৬: ঢাকাসহ সারা দেশের আজকের নামাজের সময়সূচি ইসলামে বৃক্ষরোপণ নিছক জাগতিক কাজ নয়, সদকায়ে জারিয়া ও শ্রেষ্ঠ ইবাদত ফাইনালে উঠেই ৫৪৬ কোটি টাকা নিশ্চিত আর্জেন্টিনার, চ্যাম্পিয়ন হলে পাবে কত? বাগেরহাটের শরণখোলায় স্বামী-স্ত্রীর রহস্যজনক মৃ*ত্যু: লা*শে*র পাশে কাঁদছিল দুই মাসের শিশু বিএনপি ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত বিভেদে বিশ্বাস করে না: শামা ওবায়েদ নির্বাচিত সরকারের অগ্রাধিকার অনুযায়ী ধাপে ধাপে অর্থনৈতিক সংস্কার করা হবে: অর্থমন্ত্রী এ পর্যন্ত কতবার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন? পরিসংখ্যানে কে এগিয়ে?

শাহরাস্তিতে গৃহবধূ মিম হ*ত্যা: ডাকাতির নাটক সাজিয়েছিলেন ছোট জা, আদালতে স্বীকারোক্তি

শাহরাস্তিতে গৃহবধূ মিম হত্যা: ডাকাতির নাটক সাজিয়েছিলেন ছোট জা | জনপদের খবর

শাহরাস্তি (চাঁদপুর)

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ | দুপুর ০২:৩৮

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে আলোচিত গৃহবধূ রিগান আক্তার মিম (২৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে উন্মোচন করেছে পুলিশ। পারিবারিক প্রতিহিংসার জেরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন তারই ছোট জা (স্বামীর ভাইয়ের স্ত্রী) কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনা (২৩)। হ*ত্যা*র পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তিনি ডাকাতির নাটক সাজিয়েছিলেন বলেও পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে চাঁদপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদের খাস কামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত মিনা। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই গভীর রাতে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বাত্তলা (ব্যাপারী বাড়ি) এলাকায় এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্রাইম সিন সংরক্ষণ করে এবং তদন্ত শুরু করে। পরে নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পরদিন ১৫ জুলাই নিহত গৃহবধূ মিমের বাবা কবির হোসেন বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওসির নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল ঘটনাস্থলের আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও প্রযুক্তিগত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিহতের জা কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে।

পুলিশ জানায়, ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সুমাইয়া ভেঙে পড়েন এবং বড় জা রিগান আক্তার মিমকে গলা টিপে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান, “আসামি কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনা আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে প্রতিহিংসার জেরে তার বড় জাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা সম্পূর্ণভাবে স্বীকার করেছেন। হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে এবং পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে তিনি ডাকাতির একটি মিথ্যে গল্পও সাজিয়েছিলেন।”

এদিকে মিমের অকাল মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতের সাইফা নামের আড়াই বছর বয়সী একটি মেয়ে এবং সিরাজ নামের চার মাস বয়সী এক অবুঝ ছেলে রয়েছে। ঘটনার সময় মিমের স্বামী রনি চাকরির সুবাদে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে সে সময় কেবল ওই দুই গৃহবধূ, পরিবারের প্রবীণ সদস্য (দাদাশ্বশুর) নুরুল ইসলাম এবং তিনটি শিশু ছিল।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং সংগৃহীত আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এগিয়ে চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে ‘স্টপ ড্রাগস, স্টার্ট রানিং’ ম্যারাথন: মাদক ও মোবাইল আসক্তি রুখতে ২৫০ অ্যাথলেটের দৌড়

শাহরাস্তিতে গৃহবধূ মিম হ*ত্যা: ডাকাতির নাটক সাজিয়েছিলেন ছোট জা, আদালতে স্বীকারোক্তি

আপডেট সময় : ০৮:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

শাহরাস্তি (চাঁদপুর)

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ | দুপুর ০২:৩৮

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে আলোচিত গৃহবধূ রিগান আক্তার মিম (২৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে উন্মোচন করেছে পুলিশ। পারিবারিক প্রতিহিংসার জেরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন তারই ছোট জা (স্বামীর ভাইয়ের স্ত্রী) কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনা (২৩)। হ*ত্যা*র পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তিনি ডাকাতির নাটক সাজিয়েছিলেন বলেও পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে চাঁদপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদের খাস কামরায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত মিনা। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই গভীর রাতে শাহরাস্তি পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বাত্তলা (ব্যাপারী বাড়ি) এলাকায় এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্রাইম সিন সংরক্ষণ করে এবং তদন্ত শুরু করে। পরে নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পরদিন ১৫ জুলাই নিহত গৃহবধূ মিমের বাবা কবির হোসেন বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওসির নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল ঘটনাস্থলের আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও প্রযুক্তিগত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিহতের জা কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে।

পুলিশ জানায়, ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সুমাইয়া ভেঙে পড়েন এবং বড় জা রিগান আক্তার মিমকে গলা টিপে হত্যার কথা স্বীকার করেন।

ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান, “আসামি কাজী সুমাইয়া হোসেন মিনা আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে প্রতিহিংসার জেরে তার বড় জাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা সম্পূর্ণভাবে স্বীকার করেছেন। হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে এবং পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে তিনি ডাকাতির একটি মিথ্যে গল্পও সাজিয়েছিলেন।”

এদিকে মিমের অকাল মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতের সাইফা নামের আড়াই বছর বয়সী একটি মেয়ে এবং সিরাজ নামের চার মাস বয়সী এক অবুঝ ছেলে রয়েছে। ঘটনার সময় মিমের স্বামী রনি চাকরির সুবাদে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে সে সময় কেবল ওই দুই গৃহবধূ, পরিবারের প্রবীণ সদস্য (দাদাশ্বশুর) নুরুল ইসলাম এবং তিনটি শিশু ছিল।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং সংগৃহীত আলামত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এগিয়ে চলছে।