বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো স্বপ্নের ফাইনালে পা রেখেছে লিওনেল স্কালোনির আর্জেন্টিনা। শিরোপার লড়াইয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই মেসি-মার্টিনেজদের দল নিশ্চিত করেছে চোখ কপালে ওঠার মতো বিপুল অঙ্কের প্রাইজমানি। ফাইনালে ওঠার সুবাদে লাতিন আমেরিকার এই ফুটবল পরাশক্তি ইতোমধ্যে অন্তত ৪৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৫৪৬ কোটি টাকা) নিশ্চিত করে ফেলেছে।
ফিফার নির্ধারিত পুরস্কার কাঠামো অনুযায়ী, এই বিপুল অর্থের মধ্যে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য ১০ মিলিয়ন ডলার, প্রস্তুতিমূলক খরচ বাবদ ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার এবং অন্তত রানার্সআপ হওয়ার সুবাদে নিশ্চিত হওয়া ৩৩ মিলিয়ন ডলার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে আলবিসেলেস্তেদের লক্ষ্য তো কেবল রানার্সআপ হওয়া নয়, শিরোপা ধরে রাখা। আগামী রোববার দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিপক্ষে মেগা ফাইনালে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জিততে পারলে রানার্সআপের ৩৩ মিলিয়ন ডলারের পরিবর্তে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে তারা পাবে ৫০ মিলিয়ন ডলার। সেক্ষেত্রে অংশগ্রহণ ও প্রস্তুতি ভাতাসহ আর্জেন্টিনার মোট প্রাইজমানি দাঁড়াবে ৬২ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৫০ কোটি টাকার সমান!
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপে ইতিহাসের সর্বোচ্চ প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। গত এপ্রিলে ফিফা কাউন্সিল ৪৮ দলের এই মেগা আসরের জন্য মোট ৮৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১০ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা) পুরস্কার বরাদ্দ অনুমোদন দেয়।
একনজরে ২০২৬ বিশ্বকাপের পারফরম্যান্সভিত্তিক প্রাইজমানি:
- চ্যাম্পিয়ন: ৫০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬০০ কোটি টাকা)
- রানার্সআপ: ৩৩ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৯৬ কোটি টাকা)
- তৃতীয় স্থান: ২৯ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৪৮ কোটি টাকা)
- চতুর্থ স্থান: ২৭ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা)
- ৫ম–৮ম স্থান (কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট): ১৯ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ২২৮ কোটি টাকা)
- ৯ম–১৬তম স্থান (শেষ ষোলো): ১৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৮০ কোটি টাকা)
- ১৭তম–৩২তম স্থান: ১১ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৩২ কোটি টাকা)
- ৩৩তম–৪৮তম স্থান (গ্রুপ পর্ব): ৯ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১০৮ কোটি টাকা)
ফাইনালে যেই জিতুক না কেন, অর্থের ঝনঝনানিতে এবার ফুটবলারদের পকেট যে বেশ ভারী হতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন কেবল অপেক্ষা মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই মহাকাব্যিক ফাইনালের।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















