মোঃ আল আমিন কাজী | জনপদের খবর ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ | সকাল ০৯:২৩
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়েছে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে। খামার ও ফসলের মাঠ থেকে পণ্য পরিবহনে বিলম্ব এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বাজারে সৃষ্টি হয়েছে সরবরাহ সংকট। আর এই অজুহাতে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির পাশাপাশি মাছ, মুরগি, ডিম ও কাঁচা মরিচের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, জোয়ারসাহারা কাঁচাবাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার সরেজমিনে ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে দাম বাড়ার এই চিত্র দেখা গেছে।
সবজির বাজারে অস্বস্তি বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহ আগেও যে সবজি ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হতো, তা এখন বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় ঠেকেছে। বর্তমান বাজারে ঢেঁড়স ও পটোল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং কচুরমুখী ও কচুরলতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। বেগুনের দাম জাতভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
সালাদের অনুষঙ্গ শসার দামও আকাশছোঁয়া। দেশি শসা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিষ্টিকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং লম্বা লাউ আকারভেদে প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি উত্তাপ ছড়াচ্ছে কাঁচা মরিচ। এক সপ্তাহ আগেও যে কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে পাওয়া যেত, তা এখন মানভেদে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমদানীকৃত টমেটোর দাম গত সপ্তাহের তুলনায় সামান্য কমলেও এখনো তা ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতারা জানান, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বিভিন্ন এলাকার সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। ফলে আড়তে সবজির সরবরাহ তলানিতে এসে ঠেকেছে। সরবরাহ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে আগামী কয়েক দিনে সবজির দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
মাছ, মুরগি ও ডিমের দামও চড়া সবজির বাজারের আগুন ছড়িয়েছে মাছ ও মুরগির বাজারেও। বিক্রেতাদের তথ্যমতে, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বর্তমান বাজারে আকারভেদে পাঙাশ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, মাঝারি ও বড় সাইজের তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৬০ টাকা, রুই ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং চাষের কই মাছ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে সাইজভেদে ৭০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে।
জোয়ারসাহারা বাজারের মাছ বিক্রেতা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে আড়তে মাছের সরবরাহ অনেকটাই কমে গেছে। সরবরাহ সংকটের কারণেই মূলত আড়ত থেকে আমাদের বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।’
এদিকে, মুরগির বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে, যা গত সপ্তাহেও ১৭০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে ছিল। সোনালি মুরগির দাম জাতভেদে ৩২০ থেকে ৩৬০ টাকায় উঠেছে, যা আগে ছিল ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা। ফার্মের মুরগির ডিমের দামও ডজনপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়ে এখন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তবে ঊর্ধ্বমুখী এই বাজারের মধ্যেও ক্রেতাদের জন্য একমাত্র স্বস্তির জায়গা আলু ও দেশি পেঁয়াজ। বাজারে আলু জাতভেদে ২৫ থেকে ৪০ টাকা এবং দেশি পেঁয়াজ আগের মতোই ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মোঃ আল আমিন কাজী 


















