ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন ২০২৬-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হচ্ছে নতুন ধারাবাহিক নাটক জনপদের খবর অর্থনৈতিক চাপ সামরিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি: আইআরজিসি ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি (২৪ আগস্ট ২০২৬) আশুলিয়ায় প্রতারক ও অপহরণকারী চক্রের দুই নারীসহ ৫ সদস্য আটক নির্ধারিত দামে সার বিক্রির নির্দেশ বিএফএর: নীতিমালা ভাঙলে ডিলারশিপ বাতিলের হুঁশিয়ারি মেসির গোলে আশা জাগিয়েও হার: টানা এক মাস জয়হীন ইন্টার মায়ামি আজ বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শ্রদ্ধা ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তিতে বুড়িগঙ্গায় জমজমাট নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়ায় শেখ হাসিনার পতন হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মৌচাকে ফুট ওভারব্রিজের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, দীর্ঘ যানজট পবিত্র জুমার গুরুত্ব, বিশেষ ফজিলত ও হাদিস অনুযায়ী করণীয় আমল

ট্রাম্পের বিশেষ ক্ষমায় মুক্ত হয়ে ৪ বছর পর দেশে ফিরলেন হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হার্নান্দেজ

ট্রাম্পের ক্ষমায় মুক্ত হয়ে দেশে ফিরলেন হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হার্নান্দেজ | জনপদের খবর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জনপদের খবর: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বিশেষ রাষ্ট্রীয় ক্ষমা পেয়ে অবশেষে নিজ দেশ হন্ডুরাসে ফিরে এসেছেন দেশটির বিতর্কিত সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ। মাদক পাচারের মারাত্মক অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এই প্রভাবশালী রাজনীতিককে প্রায় চার বছর আগে বিচারের মুখোমুখি করতে যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করা হয়েছিল।

গতকাল রবিবার (২৬ জুলাই) হন্ডুরাসের রাজধানী তেগুসিগালপার বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে ফুল ছিটিয়ে ও হাততালি দিয়ে অভ্যর্থনা জানান তার পরিবারের সদস্য ও কয়েকশ সমর্থক।

দীর্ঘ কারাভোগ শেষে স্বদেশের মাটিতে পা রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন এক বার্তায় নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন হার্নান্দেজ। তিনি লেখেন, দীর্ঘ সময় পর প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরতে পেরে তিনি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত। মার্কিন কারাগারে কাটানো সময়কে জীবনের সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কারাগারের দিনগুলো ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, বিশ্বের কোনো মানুষকে যেন কখনো এমন কঠিন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে না হয়।”

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে ট্রাম্প এক আদেশে হার্নান্দেজকে বিশেষ রাষ্ট্রীয় ক্ষমা প্রদান করেন। ট্রাম্পের দাবি ছিল, সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের যে মামলা করা হয়েছিল, তা মূলত তৎকালীন জো বাইডেন প্রশাসনের সাজানো ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং সেখানে হার্নান্দেজ কোনো ন্যায্য বিচার পাননি।

তবে মার্কিন আইনি ঝামেলা থেকে অব্যাহতি পেলেও স্বদেশের মাটিতে এখনই সম্পূর্ণ চিন্তামুক্ত হতে পারছেন না হার্নান্দেজ। নিজ দেশ হন্ডুরাসেও তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক জালিয়াতি ও রাষ্ট্রীয় অর্থপাচারের গুরুতর একাধিক অভিযোগ বহাল রয়েছে। আগামী ৩ আগস্ট এসব অভিযোগে তাকে দেশটির আদালতে হাজির হওয়ার দিন ধার্য রয়েছে। অবশ্য গত জুন মাসে স্থানীয় আদালত তার বিরুদ্ধে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত করায় বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়নি।

এদিকে, প্রভাবশালী এই সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের দেশে ফেরা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের আশঙ্কা, রাজনীতিতে হার্নান্দেজের গভীর প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর নিরপেক্ষ বিচার নাও হতে পারে। পুরো বিচার প্রক্রিয়া কেবল একটি আইনি আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে তাকে শেষ পর্যন্ত দায়মুক্তি দেওয়া হতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে হন্ডুরাসের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ। তার শাসনামলে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাষ্ট্রীয় তহবিল আত্মসাৎ এবং নির্বাচনী প্রচারণায় অবৈধ অর্থের অনুপ্রবেশ ঘটানোর ভূরি ভূরি অভিযোগ উঠেছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন ২০২৬-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা

ট্রাম্পের বিশেষ ক্ষমায় মুক্ত হয়ে ৪ বছর পর দেশে ফিরলেন হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হার্নান্দেজ

আপডেট সময় : ০১:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জনপদের খবর: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বিশেষ রাষ্ট্রীয় ক্ষমা পেয়ে অবশেষে নিজ দেশ হন্ডুরাসে ফিরে এসেছেন দেশটির বিতর্কিত সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ। মাদক পাচারের মারাত্মক অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত এই প্রভাবশালী রাজনীতিককে প্রায় চার বছর আগে বিচারের মুখোমুখি করতে যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর করা হয়েছিল।

গতকাল রবিবার (২৬ জুলাই) হন্ডুরাসের রাজধানী তেগুসিগালপার বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে ফুল ছিটিয়ে ও হাততালি দিয়ে অভ্যর্থনা জানান তার পরিবারের সদস্য ও কয়েকশ সমর্থক।

দীর্ঘ কারাভোগ শেষে স্বদেশের মাটিতে পা রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন এক বার্তায় নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন হার্নান্দেজ। তিনি লেখেন, দীর্ঘ সময় পর প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরতে পেরে তিনি গভীরভাবে আবেগাপ্লুত। মার্কিন কারাগারে কাটানো সময়কে জীবনের সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কারাগারের দিনগুলো ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, বিশ্বের কোনো মানুষকে যেন কখনো এমন কঠিন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে না হয়।”

উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে ট্রাম্প এক আদেশে হার্নান্দেজকে বিশেষ রাষ্ট্রীয় ক্ষমা প্রদান করেন। ট্রাম্পের দাবি ছিল, সাবেক এই প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের যে মামলা করা হয়েছিল, তা মূলত তৎকালীন জো বাইডেন প্রশাসনের সাজানো ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল এবং সেখানে হার্নান্দেজ কোনো ন্যায্য বিচার পাননি।

তবে মার্কিন আইনি ঝামেলা থেকে অব্যাহতি পেলেও স্বদেশের মাটিতে এখনই সম্পূর্ণ চিন্তামুক্ত হতে পারছেন না হার্নান্দেজ। নিজ দেশ হন্ডুরাসেও তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক জালিয়াতি ও রাষ্ট্রীয় অর্থপাচারের গুরুতর একাধিক অভিযোগ বহাল রয়েছে। আগামী ৩ আগস্ট এসব অভিযোগে তাকে দেশটির আদালতে হাজির হওয়ার দিন ধার্য রয়েছে। অবশ্য গত জুন মাসে স্থানীয় আদালত তার বিরুদ্ধে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা স্থগিত করায় বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়নি।

এদিকে, প্রভাবশালী এই সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের দেশে ফেরা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের আশঙ্কা, রাজনীতিতে হার্নান্দেজের গভীর প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর নিরপেক্ষ বিচার নাও হতে পারে। পুরো বিচার প্রক্রিয়া কেবল একটি আইনি আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে তাকে শেষ পর্যন্ত দায়মুক্তি দেওয়া হতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে হন্ডুরাসের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ। তার শাসনামলে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাষ্ট্রীয় তহবিল আত্মসাৎ এবং নির্বাচনী প্রচারণায় অবৈধ অর্থের অনুপ্রবেশ ঘটানোর ভূরি ভূরি অভিযোগ উঠেছিল।