নিজস্ব প্রতিবেদক, জনপদের খবর:
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ২৫০ কিলোমিটার জুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরার নজরদারি চালুর প্রথম দিনেই ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের কারণে শত শত মামলা হয়েছে। নতুন এই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কার্যক্রম শুরুর প্রথম মাত্র সাত ঘণ্টাতেই শনাক্ত হয়েছে ৪২৯টি আইন অমান্যকারী যানবাহন।
বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনা শনাক্ত করে এসব ডিজিটাল মামলা দায়ের করা হয়। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়কে বসানো হয়েছে ১ হাজার ৪২৭টি অত্যাধুনিক এআই ক্যামেরা, যা মহাসড়কের ৪৯০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে।
এসব ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহনের নম্বর প্লেট ও গতিবিধি শনাক্ত করতে সক্ষম। নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম (ওভারস্পিড), উল্টোপথে যানবাহন চালানো, লেন অমান্য করা, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং কিংবা অবৈধ পার্কিংয়ের মতো নিয়মভঙ্গ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা রুজু হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নিবন্ধিত গাড়ির মালিকের মুঠোফোনে খুদে বার্তার (SMS) মাধ্যমে মামলার বিবরণ পৌঁছে যাচ্ছে। বার্তা পাওয়ার পর চালক বা মালিকরা নির্ধারিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি)-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে পারছেন।
হাইওয়ের কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম জানান, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনাই এই প্রযুক্তি ব্যবহারের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, “স্বয়ংক্রিয় এ ব্যবস্থার ফলে চালকদের মধ্যে আইন মানার মানসিকতা তৈরি হবে। কোনো ধরনের ব্যক্তি হস্তক্ষেপ ছাড়াই অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যা মহাসড়কে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে।”
উল্লেখ্য, এর আগে গত শনিবার হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল যে, ১৮ আগস্ট থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আধুনিক এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক আইন প্রয়োগের এই স্বয়ংক্রিয় বা ‘অটো ফাইন’ কার্যক্রম কার্যকর করা হবে। মহাসড়কে চালকদের দায়িত্বশীলভাবে ট্রাফিক নিয়ম মেনে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষ।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















