মোঃ আল আমিন কাজী, নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
অবশেষে এক দশকেরও বেশি সময়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা জটিলতার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বহুলপ্রতীক্ষিত ‘চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ (সিইআইজেড)-এর আনুষ্ঠানিক নির্মাণকাজ শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার (২৭ জুলাই)।
কর্তৃপক্ষের আশা, দেশের অন্যতম এই মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আসবে এবং এক লাখেরও বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন যারা
আগামীকাল সোমবার সকাল ১০টায় আনোয়ারায় প্রকল্প এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর নতুন গতি
প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে এই প্রকল্প। ২০১৪ সালে প্রথম সমঝোতা স্মারক সই এবং ২০১৬ সালে জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও ডেভেলপার নিয়োগ ও অর্থায়নের জটিলতায় এটি আটকে ছিল।
তবে গত ২২-২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফল চীন সফরের পর এই প্রকল্পে অভাবনীয় গতি আসে। প্রধানমন্ত্রীর ওই সফরের সময় গত ২৫ জুন বেজা এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশনের (সিআরবিসি) মধ্যে ডেভেলপার চুক্তি বিনিময় হয়। চীনা রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই ৩০টিরও বেশি চীনা কোম্পানি এই অঞ্চলে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
কৌশলগত অবস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়ন
প্রকল্পটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর কৌশলগত অবস্থান। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম বন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অত্যন্ত কাছাকাছি হওয়ায় এই অর্থনৈতিক অঞ্চল শক্তিশালী লজিস্টিক ও পরিবহন সুবিধা পাবে।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের ঠিক আগে, ১৬ জুন একনেক সভায় এই জোনের সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে চীন সরকার রেয়াতি অর্থায়নের মাধ্যমে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা প্রদান করবে। এই বরাদ্দের মাধ্যমে জেটি, চার লেনের সংযোগ সড়ক, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), গ্যাস ও বিদ্যুৎ সাবস্টেশন নির্মাণ করা হবে।
অর্থনীতি ও পোশাক খাতে সুফল
বেজার নির্বাহী সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মেজর জেনারেল (অব.) মো. নজরুল ইসলাম জানান, প্রকল্পটি ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে আগামী তিন বছরের মধ্যেই অন্তত ৬০ শতাংশ শিল্প প্লট কারখানা নির্মাণের উপযোগী করে তোলা হবে। এখানে টেক্সটাইল, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তির মতো রপ্তানিমুখী শিল্প স্থাপিত হবে।
প্রকল্পটিকে স্বাগত জানিয়ে চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি আমিরুল হক বলেন, “চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য নির্ধারিত এই অঞ্চল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বড় ভূমিকা রাখবে।”
বিজিএমইএ-এর পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমাদের পোশাক শিল্পের জন্য বিপুল কাঁচামাল চীন থেকে আনতে হয়। চীনা উৎপাদকরা যদি এই জোন থেকে আমাদের কাঁচামাল সরবরাহ করে, তবে লিড টাইম ও উৎপাদন ব্যয় দুটোই কমবে, যা বিশ্ববাজারে আমাদের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াবে।”

মোঃ আল আমিন কাজী 



















