মো. আল আমিন কাজী, নিজস্ব প্রতিবেদক:
টানা ভারী বর্ষণ, প্রবল পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামে এক ভয়াবহ দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই কঠিন সময়ে স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দুর্যোগকবলিত এলাকার মানুষের উদ্ধার, জরুরি ত্রাণ সহায়তা প্রদান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর এবং বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে দিনরাত এক করে কাজ করছেন সেনাসদস্যরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পাহাড়ের বর্তমান পরিস্থিতি ও সেনাবাহিনীর উদ্ধার তৎপরতার বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছে।
সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপন ও নিরাপদ আশ্রয়
আইএসপিআর জানায়, দুর্যোগের কারণে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস ও পানিবন্দি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। এই অচলাবস্থা নিরসনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রয়োজনীয় প্রকৌশল সরঞ্জাম ও ভারী যন্ত্রপাতির সহায়তায় রাস্তা থেকে মাটি ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরায় সচল করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখান থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২২১টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পাহাড়ের দুর্গম এলাকাগুলোতে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে উদ্ধারেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সেনাবাহিনী। আইএসপিআর-এর তথ্যমতে, বান্দরবান থেকে ইতোমধ্যে ১৪০ জন পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, সাজেকে আটকে পড়া প্রায় ৬০০ জন পর্যটকের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫০ জনকে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট পর্যটকদেরও পর্যায়ক্রমে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ত্রাণ ও খাদ্য সহায়তা বিতরণ
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন এলাকায় রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোর মাঝে চাল, ডাল, তেল, আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্ধারকাজ, ত্রাণ সহায়তা, যোগাযোগ পুনঃস্থাপন ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও জাতীয় সংকটে জনগণের জীবন, সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যে ভূমিকা পালন করে আসছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের এই দুর্যোগেও তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হচ্ছে।

মোঃ আল আমিন কাজী 


















