আন্তর্জাতিক ডেস্ক
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ধস এবং আকস্মিক বন্যায় ভারতের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্যগুলো সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় দেশটিতে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একের পর এক বাড়িঘর ভেঙে পড়া, বিশাল আকৃতির গাছ উপড়ে যাওয়া এবং রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়ায় ওই সব এলাকার জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে আছে।
পানিবন্দি রাজধানী দিল্লি
ভারতের রাজধানী দিল্লি এখন আক্ষরিক অর্থেই পানির নিচে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব দিল্লির তুখমিরপুরে ১৬০ মিলিমিটার এবং ময়ূর বিহারে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রবল ঝোড়ো হাওয়ায় গাছ উপড়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বহু এলাকা দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎহীন ছিল। রাস্তাঘাট ডুবে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা। আগামী শনিবার পর্যন্ত দিল্লিতে বৃষ্টির এই পূর্বাভাস বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
উত্তর ভারতে বন্যা সতর্কতা ও চারধাম যাত্রা ব্যাহত
পাহাড়ি রাজ্য উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। উত্তরাখণ্ডের অলকানন্দা ও মন্দাকিনী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রবল পাহাড়ধসে গঙ্গোত্রী জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিখ্যাত চারধাম যাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া ভারী বৃষ্টির কারণে হিমাচল প্রদেশে অন্তত ৭৫টি রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের নদীগুলোর পানি ফুলেফেঁপে ওঠায় সেখানে বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাজ্যটিতে বজ্রপাত ও দেয়াল ধসে এক শিশুসহ বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে রুদ্রপ্রয়াগ, গাজিয়াবাদ ও মিরাটসহ বেশ কিছু এলাকার সব স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে উদ্ধারকাজ
পশ্চিম ভারতের মহারাষ্ট্র ও গুজরাটেও বৃষ্টির দাপট অব্যাহত রয়েছে। মুম্বাইয়ের কোলাবা ও সান্তাক্রুজে স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৮০ থেকে ৯৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কারজাট-লোনাভলা ঘাট এলাকায় পাহাড়ধসের কারণে মুম্বাই, পুনে ও হায়দরাবাদগামী প্রায় ১৮টি ট্রেন বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে সেন্ট্রাল রেলওয়ে। সরকারি হিসাব মতে, গত ১ জুন থেকে এ পর্যন্ত মহারাষ্ট্রে বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনায় ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে গুজরাটের সুরাটে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ায় শহরের একটি বড় অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) ও দমকল কর্মীরা নৌকা নিয়ে অভিযান চালাচ্ছেন। এরই মধ্যে ছয় হাজারেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ ত্রাণ শিবিরে পাঠানো হয়েছে।
কেরালাতেও ধস ও প্রাণহানি
দক্ষিণ ভারতের রাজ্য কেরালাতেও বন্যা পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক। রাজ্যের ওয়েনাদে ভয়াবহ পাহাড়ধসে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো অবিরাম তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
প্রকৃতির এই রুদ্ররোষে ভারতের বিস্তীর্ণ অংশের মানুষের জীবনে এখন চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মোঃ আল আমিন কাজী 


















