নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা অলস ও অব্যবহৃত রাষ্ট্রীয় শিল্পসম্পদকে উৎপাদনমুখী এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানাগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর।
গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ জুট মিলস লিমিটেডের (বিজেএমসি) নরসিংদী ইউনিটের অতিরিক্ত ১৪.৮০ একর জমি জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডের কাছে লিজ প্রদান সংক্রান্ত এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থনীতির বোঝা এখন উৎপাদনের হাতিয়ার
চুক্তি স্বাক্ষর শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে অলস পড়ে থাকা রাষ্ট্রীয় সম্পদ অর্থনীতির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। তাই আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে বন্ধ মিলগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করাই বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।”
তিনি জানান, নরসিংদীর এই নতুন প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার পণ্য উৎপাদন সম্ভব হবে এবং নতুন করে প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সয়াবিন বীজ প্রক্রিয়াজাত করে ভোজ্যতেল উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারেও এই প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকার সরাসরি ব্যবসা পরিচালনার পরিবর্তে দক্ষ বেসরকারি খাতকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে জানিয়ে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দীর্ঘমেয়াদি লিজ, রাজস্ব ভাগাভাগি এবং যৌথ মালিকানার মতো পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের মাধ্যমে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের বেশির ভাগ বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কার্যক্রম দৃশ্যমান হবে।
রপ্তানি আয় প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ইউরোপীয় বাজারে চাহিদা হ্রাসের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোক্তা ব্যয় কমেছে। তবে আমাদের তৈরি পোশাক শিল্প ধীরে ধীরে উচ্চমূল্যের ম্যানমেড ফাইবার ও ভ্যালু-অ্যাডেড পণ্য উৎপাদনের দিকে এগোচ্ছে। এই রূপান্তর সম্পন্ন হলে একই পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করেও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।”
বন্ধ ২৫ পাটকলের মধ্যে ২০টি লিজের আওতায়
অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, নরসিংদীর বিজেএমসির মোট ৭৭.০২ একর জমির মধ্যে আগেই ৩৪.৫০ একর জমি জুট অ্যালায়েন্সকে লিজ দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৪০ মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে এবং প্রায় ৩ হাজার ২০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। নতুন জমি যুক্ত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা আরও বাড়বে।
তিনি আরও জানান, উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি লিজ প্রদানের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪টি মিলের লিজ চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং ৯টি মিলে উৎপাদনও শুরু হয়েছে। এসব মিলে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিটিএমসি এবং অন্যান্য বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানেও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
জুট অ্যালায়েন্সের নতুন পরিকল্পনা
জুট অ্যালায়েন্স লিমিটেডের প্রতিনিধি জানান, গত দুই বছরে কারখানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ টন থেকে ৫০ টনে উন্নীত করা হয়েছে এবং উৎপাদিত পণ্য শতভাগ রপ্তানি করা হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা আইএফসি-এর সহযোগিতায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে দৈনিক তিন হাজার টন সক্ষমতার একটি ‘সিড ক্রাশিং প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















