ক্রীড়া প্রতিবেদক: মিয়ামি স্টেডিয়ামে আজ যখন লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হতে নামবে, তখন ফুটবল রোমান্টিকদের মনে উঁকি দিচ্ছে ৩৬ বছর আগের এক ভূতুড়ে স্মৃতি। ১৯৯০ সালের মিলান ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের স্তব্ধ করে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে আটলান্টিকের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্রটি। ইতিহাস বলছে, আফ্রিকার দলগুলোর বিপক্ষে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের পা হড়কানোর রেকর্ড ফুটবলে একদম নতুন কিছু নয়।
১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের কথা ফুটবল ভক্তদের স্মৃতিতে এখনো জ্বলজ্বলে। সেবার ডিয়েগো ম্যারাডোনার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে পুরো ফুটবল বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল আফ্রিকার দেশ ক্যামেরুন। ইতিহাস আজ যেন আবার এক অদ্ভুত মোহনায় এনে দাঁড় করিয়েছে আলবিসেলেস্তেদের।
টানা তিন জয়ে উড়তে থাকা লিওনেল স্কালোনির দল যখন শিরোপা ধরে রাখার মিশনে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছে, ঠিক তখনই সামনে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ জনসংখ্যার এক ‘ডেভিড’। এই ডেভিডূপী কেপ ভার্দেই এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক, যারা গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো পরাশক্তিদের রুখে দিয়ে বীরদর্পে নকআউটের টিকিট কেটেছে।
পরিসংখ্যান ও শক্তিমত্তার বিচারে যোজন যোজন এগিয়ে আর্জেন্টিনা। অপ্টার সুপারকম্পিউটার আজকের ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৮৯.৪ শতাংশ এগিয়ে রাখলেও, ফুটবল তো কেবল সংখ্যার খেলা নয়, আবেগেরও। ক্যামেরুন ম্যাচের সেই পুরনো ভূত তাড়া করছে আর্জেন্টিনাকে, আর কেপ ভার্দে কোচ বুবিস্তার নির্ভীক রণকৌশল এবং গোলরক্ষক ভোজিনহার অতিমানবীয় ফর্ম সেই ভূতকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জ্বালানি জোগাচ্ছে।
৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসি আজ মিয়ামির চেনা মাঠে আরেকটি রেকর্ড ভাঙার রাতে আলবিসেলেস্তেদের হাসাবেন, নাকি আফ্রিকার নতুন রূপকথা লিখে কেপ ভার্দে ১৯৯০-এর ক্যামেরুনকে ফিরিয়ে আনবে—তার উত্তর মিলবে আজ মাঠেই। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্ত এখন প্রহর গুনছে আরেকটি শ্বাসরুদ্ধকর ফুটবল লড়াইয়ের।

মোঃ আল আমিন কাজী 


















