ধর্ম ও জীবন ডেস্ক, জনপদের খবর:
ইসলামি বিশ্বাস ও আকিদা অনুযায়ী একনিষ্ঠ মুমিন হওয়ার অন্যতম অপরিহার্য পূর্বশর্ত হলো বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি হৃদয়ের গভীরতম ও অকৃত্রিম ভালোবাসা স্থাপন করা। পরিবার, পরিজন, সন্তানসন্ততি কিংবা নিজ জীবনের চেয়েও রসুলুল্লাহ (সা.)-এর মহব্বতকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে ইসলাম।
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) সুস্পষ্টভাবে ইরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার বাবা, তার সন্তান এবং অন্য সব মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় না হই।’ স্বভাবজাত নিয়মেই মানুষ তার মা-বাবা এবং সন্তানকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে। মা-বাবা যেমন নিজের সুখ-আরাম বিসর্জন দিয়ে সন্তানের মুখে হাসি ফোটান, তেমনি সৎ সন্তানরাও মা-বাবার সেবায় নিজেদের উজাড় করে দেন। তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে পূর্ণাঙ্গ ঈমানদার হতে হলে এই স্বভাবজাত মমতার চেয়েও রসুল (সা.)-এর স্থানকে হৃদয়ে শীর্ষে রাখতে হবে।
মুমিনদের হৃদয়ে নবীপ্রেমের প্রকাশ ঘটে তাঁর নাম শ্রবণের সঙ্গে সঙ্গে শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ উচ্চারণ এবং দরুদ পাঠের মাধ্যমে। প্রখ্যাত চিন্তাবিদ আল্লামা শেখ সাদি (রহ.) উল্লেখ করেছেন, আল্লাহর যাবতীয় ফরজ বিধান যথাযথ পালনের পর যে ব্যক্তি নিয়মিত দরুদ পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলে, তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম হয়ে যায়।
নিজের জীবনের চেয়েও রসুল (সা.)-কে বেশি ভালোবাসার বিষয়টি সহিহ বুখারি শরিফের একটি হাদিসে অত্যন্ত চমৎকারভাবে বর্ণিত হয়েছে। সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে হিশাম (রা.) বর্ণনা করেন, একবার নবীজি (সা.) সাহাবি হজরত উমর (রা.)-এর হাত ধরে ছিলেন। তখন হজরত উমর (রা.) অকপটে বলেন, ‘হে আল্লাহর রসুল! আপনি আমার কাছে আমার নিজ প্রাণ ছাড়া দুনিয়ার সবকিছুর চেয়ে বেশি প্রিয়।’ তখন মহানবী (সা.) বললেন, ‘না, যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ! যতক্ষণ না আমি তোমার কাছে তোমার নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি প্রিয় হই, ততক্ষণ তুমি পূর্ণ মুমিন নও।’
নবীজির এই নির্দেশনার পর হজরত উমর (রা.) তাৎক্ষণিকভাবে উপলব্ধি করেন যে, ক্ষণস্থায়ী এই পার্থিব জীবনে মানুষের মূল লক্ষ্যই হলো আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর রসুলের প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠেন, ‘আল্লাহর কসম, এখন আপনি আমার কাছে আমার নিজের জীবনের চেয়েও বেশি প্রিয়।’ তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘হে উমর, এখন তোমার ঈমান পূর্ণতা পেয়েছে।’
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, সাহাবায়ে কেরামের এই সরলতা ও সত্যনিষ্ঠা প্রতিটি মুসলমানের জন্য অনুসরণীয়। শুধু মৌখিক দাবিতে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুপম আদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমেই প্রকৃত নবীপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















