কৃষি ও অর্থনীতি প্রতিবেদক:
স্বাদ ও বাহ্যিক সৌন্দর্যে অনন্য হওয়ায় সারা দেশেই মানিকগঞ্জের কলার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভালো দাম ও ব্যাপক চাহিদার কারণে জেলার কৃষকরা এখন বাণিজ্যিকভাবে কলা চাষে দারুণ আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। শুধু কৃষাণ-কৃষাণী নন, সাধারণ মানুষও পারিবারিকভাবে বাড়ির আঙিনায় ও পতিত জায়গায় কলার আবাদ করছেন।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার দুই ধার, বাড়ির আঙিনা কিংবা পতিত যেকোনো জায়গাতেই কলার আবাদ চোখে পড়ার মতো। জেলার সর্বত্রই কলার আবাদ হলেও সাটুরিয়া, সিংগাইর, হরিরামপুর ও সদর উপজেলায় এর ফলন সবচেয়ে বেশি। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় সাধারণত সবরি, সাগর এবং কাঁচকলার আবাদই সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।
অল্প পরিশ্রমে অধিক লাভ
কলা চাষে খুব বেশি পুঁজি বা রক্ষণাবেক্ষণ খরচের প্রয়োজন হয় না। একবার চারা রোপণ করলেই ধারাবাহিকভাবে ফলন পাওয়া যায়। সাটুরিয়া এলাকার বাসিন্দা সাধন সাহা নিজের বাড়ির আঙিনায় কলার আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের কোনো দিন বাজার থেকে কলা কিনে খেতে হয়নি। বাড়িতে প্রায় সব ধরনের কলার গাছই আছে। পরিবারের চাহিদা মেটানোর পর প্রতি বছর ত্রিশ-চল্লিশ হাজার টাকার কলা বিক্রি করি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের জায়গা কম, তাই খুব বেশি চারা লাগাতে পারি না। তবে এতে আলাদা কোনো খরচ নেই বললেই চলে, শুধু একবার চারা রোপণ করলেই হয়।” এ সময় তিনি সবাইকে বাড়ির আশপাশের ফাঁকা জায়গায় কলার চারা রোপণের পরামর্শ দেন।
বাজারে মানিকগঞ্জের কলার একচেটিয়া আধিপত্য
স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকাতেও মানিকগঞ্জের কলার কদর রয়েছে। কলা ব্যবসায়ী রূপচান আলী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, “বাজারে মানিকগঞ্জের কলা থাকলে অন্য এলাকার কলা খুব একটা বিক্রি হতে চায় না। ক্রেতারা স্বাদ ও সুন্দর রং দেখে মানিকগঞ্জের কলাটাই আগে বেছে নেন।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, মানিকগঞ্জের মাটি কলা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বাজারে কলার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়ায় দিন দিন কলার আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষি বিভাগ থেকেও কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















