জনপদের খবর
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
লাইফস্টাইল ডেস্ক:
প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালির রান্নাঘরের অন্যতম প্রধান মসলা ও ভেষজ উপাদান হিসেবে কাঁচা হলুদের ব্যবহার হয়ে আসছে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে এর গুণের শেষ নেই। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও কাঁচা হলুদের প্রাকৃতিক ঔষধি গুণকে অকপটে স্বীকার করছে। এর মধ্যে থাকা বিশেষ প্রাকৃতিক উপাদান শরীরের নানা জটিল রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। আর এই কারণেই স্বাস্থ্য সচেতন মানুষেরা ইদানীং সকালে খালি পেটে এক টুকরো কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন। চলুন পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতাতিরিক্ত তথ্যের ভিত্তিতে জেনে নেওয়া যাক, প্রতিদিন সকালে এক টুকরো কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খাওয়ার চমৎকার সব উপকারিতা সম্পর্কে।
১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অনন্য
কাঁচা হলুদে রয়েছে ‘কারকিউমিন’ (Curcumin) নামক এক শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রাকৃতিক উপাদান। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে বা ইমিউন সিস্টেমকে ভেতর থেকে সক্রিয় ও শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে কাঁচা হলুদ গ্রহণ করলে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে হওয়া মৌসুমি সর্দি-কাশি, জ্বর ও নানাবিধ সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।
২. হজমশক্তি উন্নত করে
যাঁরা গ্যাস্ট্রিক বা বদহজমের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য সকালে কাঁচা হলুদ খাওয়া বেশ উপকারী। এটি পাকস্থলীতে পাচক রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে হজম প্রক্রিয়াকে সচল ও উন্নত করতে সাহায্য করে। ফলে পেট ফাঁপা, গ্যাস ও বুক জ্বালাপোড়ার মতো অস্বস্তিকর সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে।
৩. প্রদাহ বা জয়েন্টের ব্যথা কমাতে কার্যকর
শরীরের ভেতরের ও বাইরের বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ (Inflammation) কমাতে হলুদ দীর্ঘদিন ধরে ভেষজ ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁচা হলুদের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান বাতের ব্যথা বা জয়েন্টের দীর্ঘদিনের ব্যথা ও ফোলাভাব উপশম করতে চমৎকার কাজ করে।
৪. ত্বকের উজ্জ্বলতা ও লিভারের সুরক্ষা
কাঁচা হলুদ লিভারের বা যকৃতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে দারুণ সহায়ক। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকর বিষাক্ত উপাদান (Toxins) বের করে দিতে বা ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে। শরীর ভেতর থেকে পরিষ্কার হওয়ার ফলে রক্ত সঞ্চালন বা বিপাকক্রিয়া সচল হয়, যার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়ে ত্বকে। ত্বক হয়ে ওঠে আরও সতেজ, দাগহীন ও উজ্জ্বল।
৫. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ
বেশ কিছু আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, হলুদের সক্রিয় উপাদান রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত মাত্রায় হলুদ সেবন করা একদমই উচিত নয়।
বিশেষ সতর্কতা ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
কাঁচা হলুদ উপকারী হলেও সবার শারীরিক অবস্থা এক নয়। চিকিৎসকদের মতে, যাঁদের পিত্তথলিতে সমস্যা (Gallbladder Problems) রয়েছে, কিডনিতে পাথর আছে কিংবা যাঁরা রক্ত পাতলা করার জন্য নিয়মিত চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ সেবন করছেন, তাঁদের কাঁচা হলুদ নিয়মিত খাওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়া অতিরিক্ত পরিমাণে কাঁচা হলুদ খেলে পেটের অস্বস্তি কিংবা উল্টো বদহজম দেখা দিতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে প্রতিদিন অল্প বা পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করুন।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















