জনপদের খবর ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ | ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক:
মাঠে তখন চলছে লিওনেল মেসির জাদুকরি পায়ের প্রদর্শনী, আর হাজার মাইল দূরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মুহসীন হল মাঠে তখন বইছে আনন্দ-উল্লাসের সুনামি। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের আর্জেন্টিনা দলের প্রতি এমন বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস ও নিখাদ ভালোবাসা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসো। সমর্থকদের এই বাঁধভাঙা উন্মাদনা দেখে অভিভূত হয়ে তিনি বলেছেন, “এখানে এসে আমার মনে হচ্ছে আমি নিজের দেশ আর্জেন্টিনাতেই আছি।”
সোমবার (২২ জুন) রাতে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি বড় পর্দায় প্রদর্শন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানেই উপস্থিত হয়ে রাষ্ট্রদূত এই মন্তব্য করেন।
ম্যাচ শুরু হওয়ার বেশ কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই ঢাবির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাঠে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থী ও সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, রাত ৯টার পর থেকেই পুরো মুহসীন হল এলাকা রূপ নেয় উৎসবের নগরীতে। আকাশী-সাদা পতাকা, জার্সি, ব্যানার আর ভুভুজেলা বাঁশির শব্দে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে।
খেলা শুরুর আগে মুহসীন হল ছাত্রদলের উদ্যোগে এক জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
আর্জেন্টাইন সমর্থকদের এই দীর্ঘ লাইভ ম্যাচ উপভোগের আয়োজনে এবার যোগ হয়েছিল ভিন্ন মাত্রা। ম্যাচটি দেখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে হাজির হয়েছিলেন এক ঝাঁক আর্জেন্টাইন অতিথি ও ইনফ্লুয়েন্সার। তাদের মধ্যে জনপ্রিয় আর্জেন্টাইন ইনফ্লুয়েন্সার ‘রুলি’ বাংলাদেশের মানুষের এই অভূতপূর্ব উন্মাদনা দেখে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে উল্লাসিত জনতার উদ্দেশে তিনি চিৎকার করে বলেন, “বাংলাদেশ, তোমাকে ভালোবাসি।”
বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসো বলেন, “এখানে যে ভালোবাসা আর আতিথেয়তা আমি পেয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আপনাদের এই উদ্দীপনা দেখে নিজেকে আর পরদেশী মনে হচ্ছে না।”
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ও রুলি ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টিনার প্রখ্যাত ভ্রমণ লেখক ড্যান লান্দে, সৃজনশীল পেশাজীবী ম্যানুয়েল হাভিয়ের এসকেরা রামোন, মার্তিন দে এসকালাদা, মার্তিনা জয়ে গন্ডেল এবং সান্তিয়াগো কন্দে। দূর প্রবাসের এই তারকাদের উপস্থিতিতে এবং ঢাবি শিক্ষার্থীদের গগনবিদারী করতালিতে মুহসীন হল মাঠটি যেন রূপ নিয়েছিল এক টুকরো বুয়েনস আইরেসে।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















