জনপদের খবর
অনলাইন সংস্করণ | বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):
বাল্যবিবাহ সমাজ থেকে পুরোপুরি নির্মূল করতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় দপ্তরকে সমন্বিতভাবে ডাটাবেজ তৈরি করে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের বিষয়টি মাথায় রেখে কাজের পরিধি আরও বৃদ্ধি করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বাল্যবিবাহ রোধে বিভাগীয় কমিটির ত্রৈমাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিবাহ রেজিস্টার ও নোটারি পাবলিকদের সতর্ক করার নির্দেশ
সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, “বাল্যবিবাহ রোধে প্রতিটি জেলায় বিবাহ রেজিস্ট্রি (কাজী) এবং নোটারি পাবলিকের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে জরুরি সভা করতে হবে। তাদেরকে আইনি নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করতে হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান যুগে বাল্যবিবাহের পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের মাঝে ডিজিটাল আসক্তি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই অভিভাবক ও তরুণ প্রজন্মের মাঝে বাল্যবিবাহ এবং ডিজিটাল আসক্তির কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্যচিত্র বা ভিডিও কনটেন্ট প্রচার করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
জবাবদিহির আওতায় আসবে প্রশাসন
কাজে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না স্পষ্ট করে বিভাগীয় কমিশনার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি কোনো জেলায় বাল্যবিবাহ সংঘটিত হয়, তবে এর দায় এড়ানো যাবে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং জেলা প্রশাসনকে এর জন্য জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।”
সভায় জানানো হয়, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রতিটি থানায় একজন করে নির্দিষ্ট শিশুসুরক্ষা কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন। যেকোনো এলাকায় বাল্যবিবাহের খবর পাওয়া মাত্রই তাদের জানালে দ্রুত কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া যেকোনো নাগরিক বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সম্পূর্ণ টোল-ফ্রি হটলাইন নম্বর ১০৯, ৯৯৯ ও ১০৯৮-এ যোগাযোগ করে তাৎক্ষণিক সহায়তা নিতে পারবেন।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
ত্রৈমাসিক এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক অনিন্দিতা রায়, মহিলা বিষয়ক দপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সুরাইয়া সিদ্দীকা এবং ইউনিসেফ খুলনার চিফ মো. কাওসার হোসাইন। এ সময় খুলনা বিভাগের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















