জনপদের খবর
অনলাইন সংস্করণ | সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
মো. আল আমিন কাজী, বিশেষ প্রতিবেদক:
কারেন্ট জালের চেয়েও ভয়ংকর ও সর্বনাশা হিসেবে পরিচিত ‘চায়না দুয়ারি’ জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও সিলেটের বিশ্বনাথে থেমে নেই এর অবাধ বিপণন ও ব্যবহার। এই জালের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বিশ্বনাথের বিভিন্ন জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব চরম সংকটে পড়েছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এই জালের বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে স্থানীয় মৎস্য দপ্তরের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় দেশীয় মাছের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন মহল।
সরেজমিন চিত্র: হুমকিতে জলজ বাস্তুসংস্থান
সম্প্রতি বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে বিভিন্ন নদী, হাওর, খাল ও বিলে ভয়ংকর এই জাল ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। মৎস্য শিকারীরা কোথাও অল্প পানিতে, আবার কোথাও অর্ধেক পানির নিচে ও অর্ধেক ডাঙায় এই জাল পেতে রেখেছেন।
অত্যন্ত হালকা, সরু বুনন ও ছোট ফাঁসের লম্বা আকৃতির এই চায়না দুয়ারি জালে ছোট-বড় নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ আটকা পড়ছে। শুধু মাছই নয়, রেহাই পাচ্ছে না প্রকৃতির উপকারী ব্যাঙ, সাপ, কুচিয়া, শামুক, কাঁকড়াসহ নানা জাতের জলজ পোকামাকড়ও। এতে করে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থান বা ইকোসিস্টেম।
জীবিকার অজুহাত মৎস্য শিকারীদের
এ বিষয়ে কথা হয় স্থানীয় কয়েকজন মৎস্য শিকারীর সঙ্গে। তারা জানান, এই জাল সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ—এ কথা তারা জানেন। কিন্তু জীবিকার তাগিদে এবং সহজে মাছ শিকারের আশায় তারা এটি ব্যবহার করছেন। তাদের ভাষ্যমতে, এই জালে অল্প পরিশ্রমে অধিক পরিমাণ মাছ ধরা যায়। এছাড়া জালটি লুকিয়ে গভীর জলেও পেতে রাখা যায় বলে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দেওয়া সহজ হয়। এসব সুবিধার কারণেই মূলত চায়না দুয়ারি জালের প্রতি ঝুঁকছেন এলাকার সাধারণ জেলে ও মৌসুমি শিকারীরা।
সচেতন মহলের ক্ষোভ ও প্রশাসনের ভাষ্য
দেশীয় মৎস্য সম্পদ ধ্বংসের এই মহোৎসবে ক্ষুব্ধ স্থানীয় উদ্যোক্তারা। বিশ্বনাথের মৎস্য উদ্যোক্তা দিলদার খান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “দেশের মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করতে এক শ্রেণির অসাধু চক্র এই ভয়ংকর নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করছে। চায়না দুয়ারি জালে শুধু দেশীয় মাছ নয়, হুমকির মুখে পড়েছে সব ধরনের জলজ প্রাণীও। এগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনকে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন কুমার ধরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “চায়না দুয়ারি জাল সরকার কর্তৃক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মৎস্য আইনে এটির বিপণন ও ব্যবহার একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। মৎস্য অধিদপ্তর থেকে এই জালের ক্ষতিকর প্রভাব ও ব্যবহার বন্ধের বিষয়ে আমাদের সচেতনতামূলক প্রচারণা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”
তবে শুধু প্রচারণা নয়, নিষিদ্ধ এই জালের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার রুখতে মৎস্য দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত ও কঠোর অভিযানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















