মো. আল আমিন কাজী, নিজস্ব প্রতিবেদক:
সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তাজা ফলমূল রাখার কোনো বিকল্প নেই। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ফল কেনার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পেঁপের মতো জনপ্রিয় ফল দ্রুত পাকাতে এবং আকর্ষণীয় করতে অনেক সময় ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিক, যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
বাজারে থরে থরে সাজানো উজ্জ্বল রং ও নিখুঁত আকৃতির পেঁপে দেখতে আকর্ষণীয় হলেও এর ভেতরেই লুকিয়ে থাকতে পারে নীরব ঘাতক কেমিক্যাল। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাসায়নিক দিয়ে পাকানো এসব ফল নিয়মিত খেলে পেটের পীড়া, বমি ভাব, মাথা ঘোরাসহ দীর্ঘমেয়াদি নানা জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অনেক অসাধু ব্যবসায়ী পেঁপে দ্রুত পাকাতে ক্যালসিয়াম কার্বাইডের মতো বিপজ্জনক রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করেন। এই রাসায়নিক প্রয়োগের ফলে ফল দ্রুত পাকলেও এর স্বাভাবিক পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।
কীভাবে চিনবেন রাসায়নিকমুক্ত প্রাকৃতিক পেঁপে?
বিশেষজ্ঞরা কেমিক্যালযুক্ত পেঁপে চেনার কয়েকটি সহজ উপায় জানিয়েছেন:
- রং ও গঠন: প্রথমেই পেঁপের বাইরের রং ও গঠনের দিকে নজর দিতে হবে। রাসায়নিকভাবে পাকানো পেঁপে সাধারণত অস্বাভাবিক উজ্জ্বল হলুদ বা গাঢ় কমলা রঙের হয়ে থাকে এবং দেখতে প্রায় নিখুঁত লাগে। অন্যদিকে, প্রাকৃতিকভাবে পাকা পেঁপেতে হালকা হলুদ, সবুজ ও কমলার একটি মিশ্রণ থাকে এবং এর গায়ে কোথাও কোথাও স্বাভাবিক দাগ বা কালচে ছোপ দেখা যায়।
- ফলের গন্ধ: পেঁপের গন্ধও আসল-নকল চেনার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। স্বাভাবিকভাবে পাকা পেঁপেতে একটি হালকা মিষ্টি ও সতেজ ঘ্রাণ থাকে। কিন্তু কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো পেঁপেতে অনেক সময় কোনো ফলের গন্ধই পাওয়া যায় না, বরং এক ধরনের অস্বাভাবিক বা রাসায়নিক ঝাঁজালো গন্ধ অনুভূত হয়।
- স্বাদ ও রসালো ভাব: স্বাদের ক্ষেত্রেও পার্থক্য একেবারে স্পষ্ট। প্রাকৃতিক পেঁপে সাধারণত খেতে বেশ মিষ্টি ও রসালো হয়। কিন্তু রাসায়নিকভাবে পাকানো পেঁপে অনেক সময় পানসে, তেতো বা অস্বাভাবিক স্বাদের হয়ে থাকে। খাওয়ার সময় জিভে সামান্য অস্বস্তি লাগলে সেই ফল এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
- স্পর্শ ও কাঠিন্য: পেঁপে হাতে নিয়ে আলতো করে চাপ দিলেই ভেতরের অবস্থা অনেকটাই বোঝা যায়। কেমিক্যালযুক্ত পেঁপে বাইরে থেকে অতিরিক্ত নরম হয় এবং সামান্য চাপ দিলেই আঙুলের দাগ বসে যায় বা দেবে যায়। বিপরীতে স্বাভাবিক পাকা পেঁপে তুলনামূলকভাবে কিছুটা শক্ত থাকে এবং চাপের পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে ভেজাল ও কেমিক্যালযুক্ত ফল এখন একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তাই শুধুমাত্র চাকচিক্য, রং বা দাম দেখে ফল কেনার পরিবর্তে ক্রেতাদের আরও বেশি সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সবসময় মৌসুমি ফল কেনা, অতিরিক্ত চকচকে ও নিখুঁত ফল এড়িয়ে চলা এবং খাওয়ার আগে যেকোনো ফল পরিষ্কার পানিতে খুব ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

মোঃ আল আমিন কাজী 


















