হেলাল শেখ,
সরকারিভাবে এখনো ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়নি। তবে তফসিল ঘোষণার আগেই ঢাকার আশুলিয়ার ৪ নং ইয়ারপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী আমেজ ক্রমেই জমজমাট হয়ে উঠছে। এলাকার হাট-বাজার ও চায়ের দোকানে এখন একটাই আলোচনা—আগামী ইউপি নির্বাচন। এখন পর্যন্ত এক নারীসহ মোট ১০ জন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করে বিভিন্ন এলাকায় জোরেশোরে গণসংযোগ ও আগাম প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সূত্রে জানা গেছে, ইয়ারপুর ইউনিয়নের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। তিনি হলেন রাশিদা আক্তার রিনা, যাঁর প্রার্থিতা ঘোষণা এলাকার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বেশ কৌতুহলের সৃষ্টি করেছে।
রাশিদা আক্তার ছাড়াও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের তালিকায় হেভিওয়েট অনেক নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—ইঞ্জিনিয়ার মো. দেলোয়ার মন্ডল, মো. দেলোয়ার হোসেন সরকার, দেলোয়ার মীর, মো. আবুল হোসেন মীর, ব্যারিস্টার আজিজুল হক মীর, তাঁর আপন বড় ভাই মো. আমিনুল ইসলাম দুলাল মীর এবং অ্যাডভোকেট মো. জিল্লুর রহমানসহ আরও কয়েকজন।
একই মীরবাড়ি থেকে ৪ প্রার্থী, এলাকায় তুমুল আলোচনা
ইয়ারপুর ইউনিয়নে মোট ৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চমক ও আলোচনার বিষয় তৈরি হয়েছে ১নং ওয়ার্ডের মীরবাড়িকে কেন্দ্র করে। এই মীরবাড়ি থেকেই আপন দুই ভাই ব্যারিস্টার আজিজুল হক মীর ও মো. আমিনুল ইসলাম দুলাল মীর ছাড়াও আবুল হোসেন মীরসহ মোট ৪ জন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে একযোগে প্রচারণা চালাচ্ছেন। একই পরিবার ও বাড়ি থেকে একাধিক প্রার্থীর এই মাঠে নামা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিএনপির একাধিক নেতার স্বতন্ত্র লড়াইয়ের আভাস
স্থানীয় সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবেই অন্তত ছয়জন নেতা বর্তমানে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। শেষ পর্যন্ত দলীয়ভাবে একজনকে সমর্থন বা সবুজ সংকেত দেওয়া হলেও, অন্যরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত থেকে যেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ভোটের মাঠে বিএনপির একাধিক নেতার মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না স্থানীয়রা।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে তফসিল ঘোষণার পরই মূলত চূড়ান্ত প্রার্থিতা নিশ্চিত হবে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয়ে এখন থেকেই উঠান বৈঠক, পোস্টারিং ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















