নিজস্ব প্রতিবেদক (লাইফস্টাইল):
প্রকৃতির এক অনবদ্য দান হলো নিম গাছ। যুগ যুগ ধরে নানা রোগের মহৌষধ হিসেবে নিমের ব্যবহার হয়ে আসছে। নিমের ডাল, পাতা কিংবা রস—এর প্রতিটি অংশই মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা উপকারে আসে। চিকিৎসা বিজ্ঞান ও আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, নিম পাতার রস ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এবং কৃমিনাশক হিসেবে অত্যন্ত কার্যকর। পাশাপাশি মানুষের শরীরের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও নিমের জুড়ি মেলা ভার।
আসুন জেনে নেওয়া যাক দৈনন্দিন স্বাস্থ্য ও রূপচর্চায় নিমের জাদুকরী কিছু উপকারিতা:
শিশুদের পেটের কৃমি নির্মূলে
পেটে কৃমি হলে শিশুরা সাধারণত রোগা হয়ে যায়, পেট বড় দেখায় এবং চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, বাচ্চাদের পেটের এই কৃমি নির্মূল করতে প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে নিম পাতা দারুণ কার্যকর। পরিমিত মাত্রায় নিমের রস সেবনে এই সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
ত্বকের লাবণ্য ও ব্রণের সমস্যায়
বহু প্রাচীনকাল থেকেই রূপচর্চায় নিমের বহুল ব্যবহার রয়েছে। ত্বকের যেকোনো দাগ দূর করতে নিম খুব ভালো কাজ করে। এছাড়াও এটি প্রাকৃতিকভাবে ত্বকে ময়েশ্চারাইজার হিসেবেও কাজ করে। যাদের মুখে ব্রণের সমস্যা রয়েছে, তারা নিমপাতা বেটে সরাসরি ত্বকে লাগাতে পারেন। মাথার ত্বকে বা স্কাল্পে অনেকেরই চুলকানি ভাব হয়; নিয়মিত নিমপাতার রস মাথায় লাগালে এই অস্বস্তিকর চুলকানি কমে যায়। অন্যদিকে, নিয়মিত নিমপাতার সঙ্গে কাঁচা হলুদ পেস্ট করে ত্বকে লাগালে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় এবং স্কিন টোন ঠিক থাকে।
খুশকি দূর ও চুলের যত্নে
উজ্জ্বল, সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দন চুল পেতে নিমপাতার ব্যবহার বেশ কার্যকর। যাদের চুলে খুশকির সমস্যা রয়েছে, তারা শ্যাম্পু করার সময় নিমপাতা সেদ্ধ পানি দিয়ে চুল ম্যাসেজ করে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে পারেন। এতে খুশকির সমস্যা দ্রুত দূর হয়ে যাবে। চুলের সার্বিক যত্নে সপ্তাহে অন্তত এক দিন নিমপাতা ভালো করে বেটে চুলে লাগিয়ে ১ ঘণ্টার মতো রেখে দিন। এরপর ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এই পদ্ধতি নিয়মিত অনুসরণ করলে চুল পড়া কমার পাশাপাশি চুল হবে নরম, কোমল ও ঝলমলে।
দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষায়
দাঁতের সুস্থতায় নিমের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করার প্রচলন সেই প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। নিমের পাতা ও ছালের গুঁড়া কিংবা নিমের ডাল দিয়ে নিয়মিত দাঁত মাজলে দাঁত ও মাড়ি মজবুত হয়। এটি মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং বিভিন্ন ধরনের দন্ত রোগ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।
রাসায়নিক পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রাত্যহিক জীবনে এই ভেষজ উদ্ভিদের ব্যবহার বাড়ালে তা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















