মো. আল আমিন কাজী, নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীদের দীর্ঘ দুই দশকের অভিশাপ থেকে অবশেষে মুক্তি মিলতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় প্রায় ২০ বছর পর ঢাকার সাভারের আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের বিশাল ময়লার ভাগাড় অপসারণ, দুর্গন্ধমুক্তকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের বৃহৎ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আজ শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার-হেমায়েতপুর পয়েন্টে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মানিকগঞ্জের সিংগাইরে যাওয়ার পথে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার-হেমায়েতপুর অংশের সড়কের পাশে দীর্ঘদিনের বিশাল ময়লার স্তূপ এবং এর তীব্র দুর্গন্ধ প্রত্যক্ষ করেন। জনভোগান্তির এই চিত্র দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে এ বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার পরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ঢাকা জেলা প্রশাসককে অতি দ্রুত এই ময়লার ভাগাড় অপসারণ করে পুরো এলাকাটিকে পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে রূপান্তরের নির্দেশনা প্রদান করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে কার্যক্রমের অগ্রগতি পরিদর্শন ও উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
উপস্থিত কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানান, পর্যায়ক্রমে পুরো সড়কটিকে পরিচ্ছন্ন, দুর্গন্ধমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব মডেল সড়কে পরিণত করতেই এই বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
কী থাকছে সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমে? গৃহীত পরিকল্পনার আওতায়, সড়কের দুই পাশের সব বর্জ্য সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করে তা নির্ধারিত ল্যান্ডফিলে স্থানান্তর করা হবে। রাস্তা টেকসই করতে দুই পাশ বালি ও মাটি দিয়ে ভরাট করে ঢাল সংরক্ষণ করা হবে, যাতে বৃষ্টির পানিতে মাটি ধসে না যায়।
এছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য রাস্তার দুই পাশে সারি করে তাল, নিম, সুপারি ও নারকেলসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণ করা হবে। পুনরায় কেউ যেন সেখানে অবৈধভাবে ময়লা ফেলতে না পারে, সে জন্য রাস্তার দুই পাশে নির্মাণ করা হবে স্থায়ী উঁচু বেড়া। পাশাপাশি পুরো এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও মনিটরিং জোরদার করা হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















