মোঃ আল আমিন কাজী, রাজশাহী প্রতিনিধি:
মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে রাজশাহী থেকে সব রুটে আকস্মিকভাবে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে রাজশাহীর নওদাপাড়া ও শিরোইল বাস টার্মিনাল থেকে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। পূর্বঘোষণা ছাড়া হঠাৎ ডাকা এই পরিবহন ধর্মঘটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকাসহ বিভিন্ন গন্তব্যের শত শত যাত্রী।
যেভাবে অচলাবস্থার শুরু
রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম জানান, মূলত ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সূত্রপাত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার বিকেল ৪টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রশাসন, বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পাঁচ সদস্যের একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়, যেখানে জেলা প্রশাসন, শ্রম অধিদপ্তর, মহানগর পুলিশ এবং শ্রমিক ফেডারেশনের একজন করে প্রতিনিধি রাখার কথা বলা হয়।
কিন্তু ওই কমিটিতে বাস মালিক সমিতির একজন প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব উঠলেই বিরোধের সৃষ্টি হয়। জেলা শ্রমিকদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য এরশাদ আলী পল্টু এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন। এ নিয়ে বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলালের সঙ্গে তার তুমুল বাগবিতণ্ডা ও হট্টগোল শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠকটি ভণ্ডুল হয়ে যায়।
টার্মিনালে উত্তেজনা ও ধর্মঘটের ডাক
বৈঠক থেকে ফিরে শ্রমিকদের একটি বড় অংশ শিরোইল বাস টার্মিনালে গিয়ে চরম উত্তেজনা তৈরি করে। তারা ঘোষণা দেয়, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন না করা পর্যন্ত তাৎক্ষণিকভাবে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে মানবিক কারণে দূরপাল্লার বাসগুলো রাজশাহীতে প্রবেশ এবং অন্য জেলার বাস রাজশাহী ছেড়ে যাওয়ার জন্য আজ সকাল পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
সেই সময়সীমা শেষ হওয়ায় আজ সকাল থেকে শ্রমিকদের এই কর্মবিরতির কারণে রাজশাহী থেকে কোনো রুটের বাস ছেড়ে যায়নি। টার্মিনালগুলোতে বাস কাউন্টারগুলো খোলা থাকলেও, কখন এই কর্মবিরতি প্রত্যাহার হবে সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। ফলে কাউন্টারে এসে অনিশ্চয়তায় দাঁড়িয়ে আছেন যাত্রীরা।
প্রশাসনের উদ্যোগ ও শ্রমিকদের হুঁশিয়ারি
জনভোগান্তি কমাতে ও বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে জোর আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে শ্রমিকদের অবস্থানে অনড় থাকার ইঙ্গিত দিয়ে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য এরশাদ আলী পল্টু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায় ও একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই কর্মবিরতি চলবে।”

মোঃ আল আমিন কাজী 



















