আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের আসাম রাজ্যে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) নতুন করে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় সাম্প্রতিক এই বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪ জনে দাঁড়িয়েছে। সবশেষ সোনিতপুর জেলার একটি রাজস্ব সার্কেলে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নিহত ওই ব্যক্তি গত সোমবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ৬ জেলা, সবচেয়ে বিপাকে লখিমপুর
আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় রাজ্যের ৬টি জেলার ১২টি রাজস্ব সার্কেলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সোনিতপুর, ডিব্রুগড়, লখিমপুর, ধেমাজি, জোরহাট ও শিবসাগর জেলার শতাধিক গ্রামের ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ এই মুহূর্তে বন্যাকবলিত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লখিমপুর জেলা, যেখানে ৫৮টি গ্রাম সম্পূর্ণ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
বন্যার কারণে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও কৃষিজমিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্রোতের তোড়ে অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ধসে পড়ায় শত শত মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
তলিয়ে গেছে কৃষিজমি, হুমকিতে গবাদিপশু
রাজ্য সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বন্যার পানিতে ইতিমধ্যেই ১ হাজার ১০৩ হেক্টর কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। পানির প্রবল স্রোতে দুটি গবাদিপশু ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ১৬ হাজারের বেশি গবাদিপশু ও পোল্ট্রি খামারের প্রাণী চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ত্রাণ কার্যক্রম ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুর্গত এলাকাগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি সহায়তায় ইতিমধ্যে ২০টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। নিচু ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজও পুরোদমে চলছে। প্রশাসন দুর্গত এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রসহ রাজ্যের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। যদিও আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রতিবেশী অরুণাচল প্রদেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়লে আসামের বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হতে পারে।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















