জনপদের খবর
অনলাইন সংস্করণ | শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
সাংবাদিক আল আমিন কাজী, নিজস্ব প্রতিবেদক:
বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে অ্যানেস্থেসিয়া সেবায় চলমান চরম অনিয়ম ও আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে বাংলাদেশ সোসাইটি অব অ্যানেস্থেসিওলজিস্টস, ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যান্ড পেইন ফিজিশিয়ানস (বিএসএ-সিসিপিপি) বরিশাল শাখা। রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বরিশাল নগরীসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে অপারেশন থিয়েটারে এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আজ শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বিএসএ-সিসিপিপি বরিশাল শাখার এক সাধারণ সভায় এসব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং বিএসএ-সিসিপিপি বরিশাল শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম।
অপারেশন থিয়েটারে যেসব অনিয়ম হচ্ছে
সভায় অ্যানেস্থেসিয়া সেবার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, বিভাগের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে কিছু সার্জন একই সঙ্গে অস্ত্রোপচার এবং অ্যানেস্থেসিয়ার দায়িত্ব পালন করছেন, যা সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসা নীতিমালা ও প্রচলিত আইনের পরিপন্থী।
শুধু তাই নয়, কিছু অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট একই সময়ে একাধিক অপারেশন টেবিলে অ্যানেস্থেসিয়া সেবা দিয়ে রোগীর জীবনকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছেন। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) কোনো ধরনের নিবন্ধন ছাড়াই কিছু অসাধু ব্যক্তি অ্যানেস্থেসিয়া কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।
নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
এসব নৈরাজ্য ও অনিয়ম প্রতিরোধে পুরো বিভাগজুড়ে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালানোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, অ্যানেস্থেসিয়া সেবায় বিদ্যমান এসব অনিয়ম ও সমস্যার বিস্তারিত বিবরণ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জন এবং বিভিন্ন ক্লিনিক মালিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
নেতৃবৃন্দ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নিরাপদ অস্ত্রোপচার নিশ্চিত করতে অ্যানেস্থেসিয়া সেবায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা পেশাগত অবহেলা আর মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ডা. এ.কে.এম. ফখরুল আলম ও ডা. মো. জাহিদ হাসান, কোষাধ্যক্ষ ডা. জিয়াউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. মেহেদী হাসান আউমি, প্রেস ও প্রকাশনা সম্পাদক ডা. মো. ইমরানুল হাসান আরজু, বৈজ্ঞানিক সম্পাদক ডা. মো. শাকুরুজ্জামান এবং দপ্তর সম্পাদক ডা. চাঁদনী সিদ্দিকী।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















