স্পোর্টস রিপোর্টার:
চলতি বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে ওঠা ফিফার পক্ষপাতিত্বের সব অভিযোগ এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন দলটির অধিনায়ক লিওনেল মেসি। আলবিসেলেস্তেদের এই টানা সাফল্য সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব যোগ্যতা ও দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ফসল বলে দাবি করেছেন তিনি। বুধবার সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর সমালোচকদের এভাবেই কড়া জবাব দেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
এবারের বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির একটি ফাউল কিংবা মিশর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ভিএআরের (VAR) বেশ কিছু সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। ফুটবলপ্রেমী ও সমালোচকদের একটি বড় অংশ দাবি করতে শুরু করে যে, ফিফা ইচ্ছাকৃতভাবে আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দিচ্ছে এবং টুর্নামেন্টটি একপ্রকার সাজানো। এমনকি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে পিটিশনে স্বাক্ষরও করেছে। অবশেষে আটলান্টায় ইংল্যান্ড বধের পর দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মেসি।
শ্বাসরুদ্ধকর ওই সেমিফাইনাল ম্যাচে অ্যান্থনি গর্ডনের ৫৫ মিনিটের গোলে প্রথমেই এগিয়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। বিদায়ের দোলাচলে থাকা আর্জেন্টিনাকে আবারও ম্যাচে ফেরান মেসি নিজেই। তাঁর চমৎকার দুটি অ্যাসিস্ট থেকে এনজো ফার্নান্দেজ এবং লাউতারো মার্তিনেজ গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানের নাটকীয় জয় এনে দেন।
ম্যাচ শেষে সমালোচকদের উদ্দেশ্য করে মেসি সাফ জানিয়ে দেন, “যার গায়ে লাগে লাগুক, কিন্তু সত্যি এটাই যে মানুষ পছন্দ করুক আর না করুক, গত চার বছর ধরে আমরাই বিশ্বের সেরা দল। আমরা আবারও বিশ্বের সেরা দুটি দলের একটি হিসেবে ফাইনালে উঠেছি। এটা প্রমাণ করে যে আমরা যা অর্জন করেছি তা ভাগ্যক্রমে আসেনি এবং কেউ আমাদের এটি উপহার হিসেবে দেয়নি। টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা মোটেও সহজ কথা নয়, যা খুব কম দলই করতে পেরেছে এবং আমাদের এই দলটি সেটি করে দেখিয়েছে।”
ইংল্যান্ডের বিপক্ষের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “ইংল্যান্ডের কাছে যদি আমরা হেরে যেতাম, তবে অনেকেই অনেক ফালতু কথা বলার সুযোগ পেয়ে যেত। আমরা তাদের সেই সুযোগটি দিইনি। আমরা জানতাম যে ফুটবলীয় দক্ষতায় আমরা তাদের চেয়ে এগিয়ে ছিলাম। তবে এ ধরনের বড় ম্যাচে অনেক ঐতিহাসিক আবেগ জড়িয়ে থাকে।”
ঐতিহাসিক এই জয়টি মেসি উৎসর্গ করেছেন ফুটবলের প্রয়াত কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনাকে। ঠিক ৪০ বছর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের স্মৃতি স্মরণ করে মেসি আবেগময় কণ্ঠে বলেন, “নিঃসন্দেহে ডিয়েগো ওপর থেকে এই জয়টি দারুণভাবে উপভোগ করছেন। আজকের দিনটি তার জন্য অত্যন্ত বিশেষ ছিল এবং তাকে এই আনন্দ দিতে পারাটা আমাদের জন্য সৌভাগ্যের। তিনি ওপর থেকে যেভাবে চান এটি উদযাপন করুন, কারণ এই জয়টি তাঁর জন্যও একটি বিশেষ উপহার।”

মোঃ আল আমিন কাজী 



















