ঢাকা , শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খুলনায় র‍্যাবের অ্যাকশন: রিয়া বাজারে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ দুই অস্ত্রধারী আটক খুলনায় নিজ কন্যাকে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিলেন মা শিমা মেথিকান্দা স্টেশনের ‘বুবি’ আর হাসবেন না: ৪০ হাজার টাকার জন্য বোবা নারীকে পিটিয়ে হত্যা! শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা: চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ বিকেল ৪টায় ভারতে প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত জনজীবন: একদিনেই প্রাণ গেল ১০ জনের রিজার্ভারে ঢুকছে বন্যার পানি, স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে জরুরি সতর্কতা জারি চট্টগ্রাম ওয়াসা’র দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি: ৯ পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে ৫ নদীর পানি পার্বত্য চট্টগ্রামে দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর তৎপরতা: আটকে পড়া পর্যটক উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ ব্যাটিং ব্যর্থতার চিরচেনা রূপ: ১৩ রানের হারে জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ খোয়াল বাংলাদেশ সুরের আকাশে নক্ষত্রপতন: ৭৫ বছর বয়সে চিরবিদায় নিলেন পপ আইকন বনি টাইলার বন্ধ কারখানায় ১০৫০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ: তৈরি হবে ৩ হাজার কর্মসংস্থান যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ হামলা, মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা আঘাত ফিতনার এই যুগে ঈমান রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: জুমার মিম্বর থেকে বিশেষ বার্তা পেনাল্টি মিসের হতাশা ভুলে এমবাপ্পের বিশ্বরেকর্ড, মরক্কোকে হারিয়ে সেমিতে ফ্রান্স এমবাপ্পে-দেম্বেলের ঝলক: মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

কোটি টাকার সেতুতে ওঠার ভরসা বাঁশের সাঁকো: গাইবান্ধায় চরম দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ

  • মোঃ আল আমিন কাজী
  • আপডেট সময় : ০২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ১১ পোস্ট কাউন্ট

গাইবান্ধায় কোটি টাকার সেতুতে ওঠার ভরসা বাঁশের সাঁকো | জনপদের খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনপদের খবর:

খালের ওপর দাঁড়িয়ে আছে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঝকঝকে এক সেতু। অথচ সেই সেতুতে ওঠার জন্য দুই পাশে নেই কোনো সংযোগ সড়ক! বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি নড়বড়ে সাঁকো বেয়ে জীবনের ঝুঁকিতে সেতুতে উঠছেন। এমন অদ্ভুত ও হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বড়াইকান্দি গ্রামে। সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি কোনো কাজেই আসছে না, উল্টো চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই এলাকার প্রায় ২০ হাজার মানুষ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তরের অধীনে বড়াইকান্দি খালের ওপর এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থের সেতুটির নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা। মেসার্স রামিম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজ পায়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কাজ শুরু হয়ে জুনের মধ্যেই তা শেষ হয়। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী সেতুর উভয় পাশে মাটি ভরাট করে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা করেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরো বিল তুলে নিয়ে গেছে।

সরেজমিনে দুর্ভোগের চিত্র

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বড়াইকান্দি খালের ওপর নির্মিত সেতুটির দুই প্রান্তে মাটি নেই, রয়েছে গভীর গর্ত ও অসমতল অংশ। ফলে কোনো যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে ওঠাও অসম্ভব। উপায় না দেখে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী সাঁকো বানিয়েছেন সেতুতে ওঠার জন্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটিও এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন এলাকার বয়স্ক ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা বিরাজ করছে।

কী বলছেন ভুক্তভোগীরা?

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোটি টাকার সেতু হয়েছে, কিন্তু সেতুতে ওঠার রাস্তা নেই। বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকি, কখন কে পানিতে পড়ে যায়!”

কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান তার দৈনন্দিন কষ্টের কথা। তিনি বলেন, “এই পথ দিয়েই আমাদের বাজারে যেতে হয়। কৃষিপণ্য কখনো ঘাড়ে, কখনো মাথায় করে সেতু পার করতে হয়। সংযোগ সড়ক থাকলে ভ্যান বা সাইকেলে করে নেওয়া অনেক সহজ হতো।”

বর্ষার দুর্ভোগ নিয়ে কলেজ শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান বলেন, “বর্ষা এলেই ভয় আরও বেড়ে যায়। সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেতু নির্মাণ করা হলেও আমরা এর কোনো সুফলই পাচ্ছি না।”

কর্তৃপক্ষের নীরবতা ও বক্তব্য

স্থানীয়রা একাধিকবার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) বিষয়টি জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রামিম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জিয়াউর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মশিউর রহমানের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তাঁর সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি। তিনি বলেন, “খালে পানি থাকায় সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত বাকি কাজ শেষ করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

কাজ শেষ না করেই বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, “যতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে, ঠিক ততটুকুর বিপরীতেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় র‍্যাবের অ্যাকশন: রিয়া বাজারে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ দুই অস্ত্রধারী আটক

কোটি টাকার সেতুতে ওঠার ভরসা বাঁশের সাঁকো: গাইবান্ধায় চরম দুর্ভোগে ২০ হাজার মানুষ

আপডেট সময় : ০২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, জনপদের খবর:

খালের ওপর দাঁড়িয়ে আছে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঝকঝকে এক সেতু। অথচ সেই সেতুতে ওঠার জন্য দুই পাশে নেই কোনো সংযোগ সড়ক! বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি নড়বড়ে সাঁকো বেয়ে জীবনের ঝুঁকিতে সেতুতে উঠছেন। এমন অদ্ভুত ও হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বড়াইকান্দি গ্রামে। সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি কোনো কাজেই আসছে না, উল্টো চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই এলাকার প্রায় ২০ হাজার মানুষ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অধিদপ্তরের অধীনে বড়াইকান্দি খালের ওপর এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থের সেতুটির নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা। মেসার্স রামিম এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজ পায়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কাজ শুরু হয়ে জুনের মধ্যেই তা শেষ হয়। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী সেতুর উভয় পাশে মাটি ভরাট করে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা করেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরো বিল তুলে নিয়ে গেছে।

সরেজমিনে দুর্ভোগের চিত্র

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বড়াইকান্দি খালের ওপর নির্মিত সেতুটির দুই প্রান্তে মাটি নেই, রয়েছে গভীর গর্ত ও অসমতল অংশ। ফলে কোনো যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে ওঠাও অসম্ভব। উপায় না দেখে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী সাঁকো বানিয়েছেন সেতুতে ওঠার জন্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটিও এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন এলাকার বয়স্ক ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা বিরাজ করছে।

কী বলছেন ভুক্তভোগীরা?

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কোটি টাকার সেতু হয়েছে, কিন্তু সেতুতে ওঠার রাস্তা নেই। বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকি, কখন কে পানিতে পড়ে যায়!”

কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান জানান তার দৈনন্দিন কষ্টের কথা। তিনি বলেন, “এই পথ দিয়েই আমাদের বাজারে যেতে হয়। কৃষিপণ্য কখনো ঘাড়ে, কখনো মাথায় করে সেতু পার করতে হয়। সংযোগ সড়ক থাকলে ভ্যান বা সাইকেলে করে নেওয়া অনেক সহজ হতো।”

বর্ষার দুর্ভোগ নিয়ে কলেজ শিক্ষার্থী আরিফুর রহমান বলেন, “বর্ষা এলেই ভয় আরও বেড়ে যায়। সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেতু নির্মাণ করা হলেও আমরা এর কোনো সুফলই পাচ্ছি না।”

কর্তৃপক্ষের নীরবতা ও বক্তব্য

স্থানীয়রা একাধিকবার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) বিষয়টি জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রামিম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জিয়াউর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মশিউর রহমানের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তাঁর সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি। তিনি বলেন, “খালে পানি থাকায় সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত বাকি কাজ শেষ করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

কাজ শেষ না করেই বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, “যতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে, ঠিক ততটুকুর বিপরীতেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে।”