মো. আল আমিন কাজী, নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুর মেট্রোপলিটন (জিএমপি) এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। গত ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) মহানগরীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার ২১৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন অপরাধে মামলা দায়ের হয়েছে ১ হাজার ৮৫৪টি।
গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।
ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার জানান, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জিএমপি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত ছয় মাসে দায়ের করা ১ হাজার ৮৫৪টি মামলার মধ্যে হত্যা মামলা রয়েছে ২০টি, ডাকাতি মামলা ৭টি এবং ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় ২৮টি মামলা হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশু সুরক্ষায় বিশেষ জোর দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমনে ১৭৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে গ্রেপ্তারকৃত ৩ হাজার ২১৭ আসামির মধ্যে ৪৬ জন ছিনতাইকারী ও ২৩ জন ডাকাত রয়েছে। এছাড়া ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৩৫৪ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে জিএমপি। এসব অভিযানে ৯৮৮ জন মাদক কারবারি এবং ৯০১ জন মাদক সেবনকারীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। গত ছয় মাসে পুলিশ ৫১ হাজার ৫৬০ পিস ইয়াবা, ৩৫৭ কেজি গাঁজা, ১ কেজি ৯৬৫ গ্রাম হেরোইন, ৫৩০ পিস প্যাথিডিন এবং ৪৬ লিটার দেশীয় মদ উদ্ধার করেছে। মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের পর মাদকসংক্রান্ত ৮১২টি এবং অস্ত্র আইনে ৬০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি, ৪টি ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
নাশকতা ও আধিপত্য বিস্তারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানান কমিশনার। গত ২১ জুন এবং ৩ জুলাই সিটি করপোরেশনের পৃথক স্থানে ঝটিকা মিছিল ও পুলিশের ওপর হুমকির ঘটনায় ব্যবস্থা নিয়ে ৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব ঘটনায় জড়িত ৯৫ জনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে জিএমপি।
পাশাপাশি, টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় শিল্প খাতের অন্যতম আয়ের উৎস ‘ঝুট’ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধেও কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিশেষ অভিযানে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জনগণের জানমাল রক্ষা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, “গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।”
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, উপপুলিশ কমিশনাররাসহ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















