ঢাকা , শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খুলনায় র‍্যাবের অ্যাকশন: রিয়া বাজারে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ দুই অস্ত্রধারী আটক খুলনায় নিজ কন্যাকে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিলেন মা শিমা মেথিকান্দা স্টেশনের ‘বুবি’ আর হাসবেন না: ৪০ হাজার টাকার জন্য বোবা নারীকে পিটিয়ে হত্যা! শনিবারের এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা: চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ বিকেল ৪টায় ভারতে প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত জনজীবন: একদিনেই প্রাণ গেল ১০ জনের রিজার্ভারে ঢুকছে বন্যার পানি, স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে জরুরি সতর্কতা জারি চট্টগ্রাম ওয়াসা’র দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি: ৯ পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে ৫ নদীর পানি পার্বত্য চট্টগ্রামে দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর তৎপরতা: আটকে পড়া পর্যটক উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ ব্যাটিং ব্যর্থতার চিরচেনা রূপ: ১৩ রানের হারে জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ খোয়াল বাংলাদেশ সুরের আকাশে নক্ষত্রপতন: ৭৫ বছর বয়সে চিরবিদায় নিলেন পপ আইকন বনি টাইলার বন্ধ কারখানায় ১০৫০ কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ: তৈরি হবে ৩ হাজার কর্মসংস্থান যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ হামলা, মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা আঘাত ফিতনার এই যুগে ঈমান রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: জুমার মিম্বর থেকে বিশেষ বার্তা পেনাল্টি মিসের হতাশা ভুলে এমবাপ্পের বিশ্বরেকর্ড, মরক্কোকে হারিয়ে সেমিতে ফ্রান্স এমবাপ্পে-দেম্বেলের ঝলক: মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে ফ্রান্স

ঝিনাইদহে ‘পুঁইফল’ চাষে কৃষকদের মুখে হাসি: কম খরচে লাখ টাকা আয়ের নতুন সম্ভাবনা

  • মোঃ আল আমিন কাজী
  • আপডেট সময় : ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ২২ পোস্ট কাউন্ট

ঝিনাইদহে পুঁইফল বা মেচড়ি চাষে কৃষকদের লাখ টাকা আয় | জনপদের খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ:

চারদিকে যত দূর চোখ যায়, কেবলই দৃষ্টিনন্দন সবুজের সমারোহ। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে মাচার পর মাচায় ঝুলছে থোকা থোকা আগাম জাতের পুঁইশাকের বীজ। স্থানীয়ভাবে এটি ‘পুঁইফল’ বা ‘পুঁইশাকের মেচড়ি’ নামে পরিচিত। কম উৎপাদন খরচ, বাম্পার ফলন এবং বাজারে চড়া দাম— সব মিলিয়ে এই পুঁইফল এখন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষকদের কাছে এক নতুন সম্ভাবনার ফসলে পরিণত হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এর বাণিজ্যিক চাষের দিকে ঝুঁকছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বাণিজ্যিকভাবে ভারতীয় হাইব্রিড আগাম জাতের পুঁইফলের আবাদ হচ্ছে। শুধু সাগান্না গ্রামই নয়, আশপাশের বৈডাঙ্গা, ভাতুড়িয়া, বকশিপুর, কুল্লাগাছা, চারাতলা, গাগেন্না, রাজনগর, দায়পাড়া ও শালিয়াংসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মাঠে এখন পুঁইফলের এই সবুজ রাজ্য চোখে পড়ে।

স্থানীয় কৃষক হাসমত আলী, চাঁদ আলী বিশ্বাস, শহিদুল ইসলাম, সাগর মিয়া ও মোছা. জেসমিন খাতুনসহ বেশ কয়েকজন চাষি জানান, গত কয়েক বছরে বাজারে পুঁইফলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই এই ফসল থেকে ফলন পাওয়া যায়। তাই প্রচলিত অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি অনেক কৃষক এখন এই লাভজনক চাষে ঝুঁকছেন। আনন্দের বিষয় হলো, এই পুঁইফল চাষ করে শুধু পুরুষরাই নন, এলাকার অনেক নারী উদ্যোক্তাও দারুণ সাফল্য পেয়েছেন।

খরচ ২০ হাজার, আয় হতে পারে ২ লাখ টাকা

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় প্রায় ৯০ হেক্টর জমিতে পুঁইফলের আবাদ হয়েছে। কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে মাচা তৈরি, বীজ সংগ্রহ এবং আনুষঙ্গিক পরিচর্যা বাবদ তাদের খরচ হয় সর্বমোট ২০ হাজার টাকার মতো। কিন্তু বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পুঁইফল প্রায় ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচের তুলনায় কৃষকদের লাভ হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। এ কারণে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে এই ফসল চাষের পরিকল্পনা করছেন অনেকে। বাজারমূল্য এভাবে স্থিতিশীল থাকলে আগামীতে আরও নতুন কৃষক এই চাষের সঙ্গে যুক্ত হবেন বলে তাদের আশা।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর এ নবী বলেন, “পুঁইশাকের পাতা ও ডগা নিয়মিত কেটে ফেললে গাছে ফল বেশি ধরে। সঠিক পরিচর্যায় ভালো ফলন হলে এক বিঘা জমি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল হওয়ায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৃষক এই চাষে যুক্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি পুঁইফলের ক্ষেত পরিচর্যা ও ফসল তোলার কাজে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বেশি থাকায় গ্রামীণ নারীরাও এর মাধ্যমে বাড়তি আয়ের দারুণ সুযোগ পাচ্ছেন।”

জনপ্রিয় সংবাদ

খুলনায় র‍্যাবের অ্যাকশন: রিয়া বাজারে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ দুই অস্ত্রধারী আটক

ঝিনাইদহে ‘পুঁইফল’ চাষে কৃষকদের মুখে হাসি: কম খরচে লাখ টাকা আয়ের নতুন সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ:

চারদিকে যত দূর চোখ যায়, কেবলই দৃষ্টিনন্দন সবুজের সমারোহ। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে মাচার পর মাচায় ঝুলছে থোকা থোকা আগাম জাতের পুঁইশাকের বীজ। স্থানীয়ভাবে এটি ‘পুঁইফল’ বা ‘পুঁইশাকের মেচড়ি’ নামে পরিচিত। কম উৎপাদন খরচ, বাম্পার ফলন এবং বাজারে চড়া দাম— সব মিলিয়ে এই পুঁইফল এখন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষকদের কাছে এক নতুন সম্ভাবনার ফসলে পরিণত হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এর বাণিজ্যিক চাষের দিকে ঝুঁকছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বাণিজ্যিকভাবে ভারতীয় হাইব্রিড আগাম জাতের পুঁইফলের আবাদ হচ্ছে। শুধু সাগান্না গ্রামই নয়, আশপাশের বৈডাঙ্গা, ভাতুড়িয়া, বকশিপুর, কুল্লাগাছা, চারাতলা, গাগেন্না, রাজনগর, দায়পাড়া ও শালিয়াংসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মাঠে এখন পুঁইফলের এই সবুজ রাজ্য চোখে পড়ে।

স্থানীয় কৃষক হাসমত আলী, চাঁদ আলী বিশ্বাস, শহিদুল ইসলাম, সাগর মিয়া ও মোছা. জেসমিন খাতুনসহ বেশ কয়েকজন চাষি জানান, গত কয়েক বছরে বাজারে পুঁইফলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই এই ফসল থেকে ফলন পাওয়া যায়। তাই প্রচলিত অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি অনেক কৃষক এখন এই লাভজনক চাষে ঝুঁকছেন। আনন্দের বিষয় হলো, এই পুঁইফল চাষ করে শুধু পুরুষরাই নন, এলাকার অনেক নারী উদ্যোক্তাও দারুণ সাফল্য পেয়েছেন।

খরচ ২০ হাজার, আয় হতে পারে ২ লাখ টাকা

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় প্রায় ৯০ হেক্টর জমিতে পুঁইফলের আবাদ হয়েছে। কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে মাচা তৈরি, বীজ সংগ্রহ এবং আনুষঙ্গিক পরিচর্যা বাবদ তাদের খরচ হয় সর্বমোট ২০ হাজার টাকার মতো। কিন্তু বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পুঁইফল প্রায় ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচের তুলনায় কৃষকদের লাভ হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। এ কারণে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে এই ফসল চাষের পরিকল্পনা করছেন অনেকে। বাজারমূল্য এভাবে স্থিতিশীল থাকলে আগামীতে আরও নতুন কৃষক এই চাষের সঙ্গে যুক্ত হবেন বলে তাদের আশা।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর এ নবী বলেন, “পুঁইশাকের পাতা ও ডগা নিয়মিত কেটে ফেললে গাছে ফল বেশি ধরে। সঠিক পরিচর্যায় ভালো ফলন হলে এক বিঘা জমি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল হওয়ায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৃষক এই চাষে যুক্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি পুঁইফলের ক্ষেত পরিচর্যা ও ফসল তোলার কাজে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বেশি থাকায় গ্রামীণ নারীরাও এর মাধ্যমে বাড়তি আয়ের দারুণ সুযোগ পাচ্ছেন।”