ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন ২০২৬-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হচ্ছে নতুন ধারাবাহিক নাটক জনপদের খবর অর্থনৈতিক চাপ সামরিক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি: আইআরজিসি ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি (২৪ আগস্ট ২০২৬) আশুলিয়ায় প্রতারক ও অপহরণকারী চক্রের দুই নারীসহ ৫ সদস্য আটক নির্ধারিত দামে সার বিক্রির নির্দেশ বিএফএর: নীতিমালা ভাঙলে ডিলারশিপ বাতিলের হুঁশিয়ারি মেসির গোলে আশা জাগিয়েও হার: টানা এক মাস জয়হীন ইন্টার মায়ামি আজ বঙ্গভবনে উঠছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শ্রদ্ধা ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তিতে বুড়িগঙ্গায় জমজমাট নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়ায় শেখ হাসিনার পতন হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মৌচাকে ফুট ওভারব্রিজের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, দীর্ঘ যানজট পবিত্র জুমার গুরুত্ব, বিশেষ ফজিলত ও হাদিস অনুযায়ী করণীয় আমল

ঝিনাইদহে ‘পুঁইফল’ চাষে কৃষকদের মুখে হাসি: কম খরচে লাখ টাকা আয়ের নতুন সম্ভাবনা

  • মোঃ আল আমিন কাজী
  • আপডেট সময় : ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ৮৫ পোস্ট কাউন্ট

ঝিনাইদহে পুঁইফল বা মেচড়ি চাষে কৃষকদের লাখ টাকা আয় | জনপদের খবর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ:

চারদিকে যত দূর চোখ যায়, কেবলই দৃষ্টিনন্দন সবুজের সমারোহ। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে মাচার পর মাচায় ঝুলছে থোকা থোকা আগাম জাতের পুঁইশাকের বীজ। স্থানীয়ভাবে এটি ‘পুঁইফল’ বা ‘পুঁইশাকের মেচড়ি’ নামে পরিচিত। কম উৎপাদন খরচ, বাম্পার ফলন এবং বাজারে চড়া দাম— সব মিলিয়ে এই পুঁইফল এখন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষকদের কাছে এক নতুন সম্ভাবনার ফসলে পরিণত হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এর বাণিজ্যিক চাষের দিকে ঝুঁকছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বাণিজ্যিকভাবে ভারতীয় হাইব্রিড আগাম জাতের পুঁইফলের আবাদ হচ্ছে। শুধু সাগান্না গ্রামই নয়, আশপাশের বৈডাঙ্গা, ভাতুড়িয়া, বকশিপুর, কুল্লাগাছা, চারাতলা, গাগেন্না, রাজনগর, দায়পাড়া ও শালিয়াংসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মাঠে এখন পুঁইফলের এই সবুজ রাজ্য চোখে পড়ে।

স্থানীয় কৃষক হাসমত আলী, চাঁদ আলী বিশ্বাস, শহিদুল ইসলাম, সাগর মিয়া ও মোছা. জেসমিন খাতুনসহ বেশ কয়েকজন চাষি জানান, গত কয়েক বছরে বাজারে পুঁইফলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই এই ফসল থেকে ফলন পাওয়া যায়। তাই প্রচলিত অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি অনেক কৃষক এখন এই লাভজনক চাষে ঝুঁকছেন। আনন্দের বিষয় হলো, এই পুঁইফল চাষ করে শুধু পুরুষরাই নন, এলাকার অনেক নারী উদ্যোক্তাও দারুণ সাফল্য পেয়েছেন।

খরচ ২০ হাজার, আয় হতে পারে ২ লাখ টাকা

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় প্রায় ৯০ হেক্টর জমিতে পুঁইফলের আবাদ হয়েছে। কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে মাচা তৈরি, বীজ সংগ্রহ এবং আনুষঙ্গিক পরিচর্যা বাবদ তাদের খরচ হয় সর্বমোট ২০ হাজার টাকার মতো। কিন্তু বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পুঁইফল প্রায় ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচের তুলনায় কৃষকদের লাভ হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। এ কারণে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে এই ফসল চাষের পরিকল্পনা করছেন অনেকে। বাজারমূল্য এভাবে স্থিতিশীল থাকলে আগামীতে আরও নতুন কৃষক এই চাষের সঙ্গে যুক্ত হবেন বলে তাদের আশা।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর এ নবী বলেন, “পুঁইশাকের পাতা ও ডগা নিয়মিত কেটে ফেললে গাছে ফল বেশি ধরে। সঠিক পরিচর্যায় ভালো ফলন হলে এক বিঘা জমি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল হওয়ায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৃষক এই চাষে যুক্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি পুঁইফলের ক্ষেত পরিচর্যা ও ফসল তোলার কাজে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বেশি থাকায় গ্রামীণ নারীরাও এর মাধ্যমে বাড়তি আয়ের দারুণ সুযোগ পাচ্ছেন।”

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন ২০২৬-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা

ঝিনাইদহে ‘পুঁইফল’ চাষে কৃষকদের মুখে হাসি: কম খরচে লাখ টাকা আয়ের নতুন সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ:

চারদিকে যত দূর চোখ যায়, কেবলই দৃষ্টিনন্দন সবুজের সমারোহ। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে মাচার পর মাচায় ঝুলছে থোকা থোকা আগাম জাতের পুঁইশাকের বীজ। স্থানীয়ভাবে এটি ‘পুঁইফল’ বা ‘পুঁইশাকের মেচড়ি’ নামে পরিচিত। কম উৎপাদন খরচ, বাম্পার ফলন এবং বাজারে চড়া দাম— সব মিলিয়ে এই পুঁইফল এখন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষকদের কাছে এক নতুন সম্ভাবনার ফসলে পরিণত হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এর বাণিজ্যিক চাষের দিকে ঝুঁকছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বাণিজ্যিকভাবে ভারতীয় হাইব্রিড আগাম জাতের পুঁইফলের আবাদ হচ্ছে। শুধু সাগান্না গ্রামই নয়, আশপাশের বৈডাঙ্গা, ভাতুড়িয়া, বকশিপুর, কুল্লাগাছা, চারাতলা, গাগেন্না, রাজনগর, দায়পাড়া ও শালিয়াংসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মাঠে এখন পুঁইফলের এই সবুজ রাজ্য চোখে পড়ে।

স্থানীয় কৃষক হাসমত আলী, চাঁদ আলী বিশ্বাস, শহিদুল ইসলাম, সাগর মিয়া ও মোছা. জেসমিন খাতুনসহ বেশ কয়েকজন চাষি জানান, গত কয়েক বছরে বাজারে পুঁইফলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই এই ফসল থেকে ফলন পাওয়া যায়। তাই প্রচলিত অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি অনেক কৃষক এখন এই লাভজনক চাষে ঝুঁকছেন। আনন্দের বিষয় হলো, এই পুঁইফল চাষ করে শুধু পুরুষরাই নন, এলাকার অনেক নারী উদ্যোক্তাও দারুণ সাফল্য পেয়েছেন।

খরচ ২০ হাজার, আয় হতে পারে ২ লাখ টাকা

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সদর উপজেলায় প্রায় ৯০ হেক্টর জমিতে পুঁইফলের আবাদ হয়েছে। কৃষকরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে মাচা তৈরি, বীজ সংগ্রহ এবং আনুষঙ্গিক পরিচর্যা বাবদ তাদের খরচ হয় সর্বমোট ২০ হাজার টাকার মতো। কিন্তু বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পুঁইফল প্রায় ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচের তুলনায় কৃষকদের লাভ হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। এ কারণে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে এই ফসল চাষের পরিকল্পনা করছেন অনেকে। বাজারমূল্য এভাবে স্থিতিশীল থাকলে আগামীতে আরও নতুন কৃষক এই চাষের সঙ্গে যুক্ত হবেন বলে তাদের আশা।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর এ নবী বলেন, “পুঁইশাকের পাতা ও ডগা নিয়মিত কেটে ফেললে গাছে ফল বেশি ধরে। সঠিক পরিচর্যায় ভালো ফলন হলে এক বিঘা জমি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল হওয়ায় প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কৃষক এই চাষে যুক্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি পুঁইফলের ক্ষেত পরিচর্যা ও ফসল তোলার কাজে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বেশি থাকায় গ্রামীণ নারীরাও এর মাধ্যমে বাড়তি আয়ের দারুণ সুযোগ পাচ্ছেন।”