নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা চার দিনের ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চল। টানা এই বৃষ্টিতে পাহাড়ধস ও দেয়ালচাপায় গত তিন দিনে এ অঞ্চলের তিন জেলায় অন্তত ২২ জনের ম*র্মা*ন্তি*ক মৃ*ত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শুধু গতকাল বুধবারই প্রাণ হারিয়েছে সাত শিশু। ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের পাশাপাশি চট্টগ্রাম নগরে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে, স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।
পানিবন্দি নগরী ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
টানা বর্ষণে নগরের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমে গেছে। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি—সবখানেই থইথই পানি। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। অন্যদিকে, অতিবৃষ্টির কারণে রেললাইনের ওপর পানি জমে থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজারের ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
উখিয়ায় দেয়াল ধসে তিন ছাত্রীর মৃ*ত্যু
বৃষ্টির ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে কক্সবাজারেও। গতকাল দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি মাদ্রাসার দেয়াল ধসে পড়ে তিন ছাত্রীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী, রোহিঙ্গা এবং প্রশাসনের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালান।
৪৩ বছরের রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টি
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবেই চট্টগ্রামে টানা চার দিন ধরে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে এবং এই বৈরী আবহাওয়া আরও দুই দিন স্থায়ী হতে পারে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার বেলা তিনটা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১৭৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এর আগে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যা গত ৪৩ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
বিশেষজ্ঞদের মত
বিশেষজ্ঞ ও আবহাওয়াবিদেরা এবারের এই বৃষ্টিপাতকে পুরোপুরি অস্বাভাবিক না বললেও, ধরনটিকে বেশ ব্যতিক্রম বলছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক অলক পাল পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানান, “এবার আষাঢ় মাসের প্রথম ২০ দিন তেমন কোনো বৃষ্টিই হয়নি। কিন্তু এখন অতিবৃষ্টির প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে সাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ। বর্ষাকালে সাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে এ ধরনের বৃষ্টি হয়ে থাকে। তবে গত ৪৩ বছরে এত ব্যাপক পরিমাণে বৃষ্টি হয়নি। সে হিসাবে এবারের বৃষ্টিকে অস্বাভাবিক বলা যায়।”
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ধসের আশঙ্কায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















