জনপদের খবর
অনলাইন সংস্করণ | সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির প্রভাবে নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। তিস্তাসহ দেশের প্রধান চারটি নদীর পানি ইতোমধ্যে সতর্কসীমায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে রংপুর অঞ্চলে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় এসব এলাকার নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধির তীব্র শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে সিলেট ও রংপুর বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
গতকাল রবিবার (২৮ জুন) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
সতর্কসীমায় যে চার নদী
পাউবো জানিয়েছে, বর্তমানে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর স্টেশনে সতর্কসীমায় অবস্থান করছে। এছাড়া সিলেট অঞ্চলে সুরমা নদী ছাতক ও সুনামগঞ্জ স্টেশনে, কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ ও মারকুলি স্টেশনে এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলে সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা স্টেশনে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।
সিলেট অঞ্চলে বন্যার শঙ্কা
পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল থাকলেও আগামী তিন দিন এই অববাহিকায় পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এর ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে একটি স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া এই বিভাগের সারিগোয়াইন, মনু ও যাদুকাটা নদীর পানি কমলেও ধলাই ও খোয়াই নদীর পানি বেড়েছে, যা আগামী তিন দিন আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে।
রংপুর বিভাগে পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা
গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়েছে। অন্যদিকে তিস্তা নদীর পানি সামান্য হ্রাস পেলেও আগামী দুই দিন এই অঞ্চলের নদীগুলোর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়ে তৃতীয় দিনে স্থিতিশীল হতে পারে। পাউবো সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এতে এসব নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে।
ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকা
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের প্রধান নদী অববাহিকা—ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী পাঁচদিন এসব নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে আপাতত এই নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে পাউবো।
ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের চিত্র
ময়মনসিংহ বিভাগের সোমেশ্বরী, জিঞ্জিরাম, ভুলাই ও কংস নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা আগামী তিনদিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময়ে নদীগুলো নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় সতর্কসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম, পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া, ফেনী, হালদা ও মাতামুহুরী নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় হ্রাস পেয়েছে। তবে আবহাওয়া অফিসের ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিনদিন এই অঞ্চলের নদীগুলোর পানি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















