মো. আল আমিন কাজী, লাইফস্টাইল ডেস্ক:
বয়স বাড়ার সাথে সাথে ত্বকে বলিরেখা বা ভাঁজ পড়া একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। তবে বর্তমান সময়ে অতিরিক্ত দূষণ, রোদ এবং অযত্নের কারণে অনেক সময় অল্প বয়সেই ত্বকে বয়সের ছাপ বা রিংকেল পড়তে শুরু করে। কেমিক্যালযুক্ত দামি প্রসাধনীর ওপর নির্ভর না করে, আমাদের হাতের নাগালেই থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদানের সাহায্যে খুব সহজেই ত্বকের যৌবন ধরে রাখা সম্ভব। এর মধ্যে মধু ও কফি ত্বকের যত্নে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে।
মধু: ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ও উজ্জ্বলতা বাড়াতে
প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে মধুর কোনো তুলনা নেই। এটি ত্বকের গভীরে পুষ্টি জোগায়, স্থিতিস্থাপকতা (Elasticity) বাড়ায় এবং ত্বকের ভাঁজ দূর করতে সহায়তা করে।
ব্যবহার বিধি: পর্যাপ্ত পরিমাণ খাঁটি মধুর সঙ্গে সামান্য পানি মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। এরপর ত্বকের যেসব স্থানে ভাঁজ বা বলিরেখা পড়েছে, সেখানে মিশ্রণটি আলতো করে মেখে নিতে হবে। ২০ মিনিট অপেক্ষা করার পর কুসুম গরম পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলতে হবে। নিয়মিত এই প্যাক ব্যবহারে ত্বকের শুষ্কতা দূর হয়ে সতেজ ও প্রাণবন্ত ভাব ফিরে আসে।
ক্যাফেইন বা কফি: বয়সভিত্তিক অক্সিডেটিভ চাপ রোধে
কফিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যাফেইন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। কফিতে থাকা এই ক্যাফেইন ত্বককে বয়সভিত্তিক অক্সিডেটিভ চাপ (Oxidative stress) থেকে সুরক্ষিত রাখতে দারুণ কাজ করে। বিখ্যাত ‘অক্সিডেটিভ মেডিসিন অ্যান্ড সেলুলার লংজিভিটি জার্নাল’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে— ক্যাফেইন সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির (UV Rays) কারণে হওয়া বয়সের ছাপ কমাতেও সাহায্য করে।
ব্যবহার বিধি: কফির বীজ বা কফি পাউডারের সঙ্গে সামান্য পানি যোগ করে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এরপর পেস্টটি ত্বকে লাগিয়ে আঙুলের সাহায্যে আলতো করে গোলাকারভাবে (সার্কুলার মোশনে) ম্যাসাজ করতে হবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে মিশ্রণটি ত্বকে বসে গেলে কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এটি ত্বকের মৃত কোষ বা ডেড সেল দূর করে মুহূর্তেই প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে।
নিয়মিত এই সহজ ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো মেনে চললে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ত্বক থাকবে সতেজ, টানটান এবং বয়সের ছাপমুক্ত।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















