জনপদের খবর
অনলাইন সংস্করণ | শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক, ঢাকা:
সরকার, চিকিৎসক সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই দেশে একটি টেকসই অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর মিরপুরে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত দুদিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মরণোত্তর অঙ্গদানে নতুন আশার সঞ্চার
মৃতদেহ থেকে অঙ্গদান ও কিডনি প্রতিস্থাপন কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করার উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “অঙ্গদান বহু মরণাপন্ন রোগীর জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করে। একজন মৃত মানুষের কিডনি ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত তাজা থাকে। সঠিক সময়ে এই কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কিডনি বিকল হওয়া একজন রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব।”
লাইভ (জীবিত) ও ডিসিজড (মৃত) ডোনার ট্রান্সপ্লান্টেশন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সহায়তা সম্প্রসারণের মাধ্যমে হাজার হাজার রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
কিডনি রোগের ভয়াবহ চিত্র
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের কিডনি রোগের একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন। তারা জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত।
- প্রতি বছর ৩৫ থেকে ৪০ হাজার রোগী ‘এন্ড-স্টেজ রেনাল ডিজিজে’ (কিডনি সম্পূর্ণ বিকল) আক্রান্ত হয়ে ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।
- আর্থিক সংকটের কারণে এদের মধ্যে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ রোগীই প্রয়োজনীয় ট্রান্সপ্লান্ট (প্রতিস্থাপন) সেবা থেকে বঞ্চিত থাকেন এবং অনেকেই মৃত্যুবরণ করেন।
- দেশে বছরে মাত্র কয়েকশত কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হয়, যার মধ্যে মৃত ডোনার থেকে ট্রান্সপ্লান্টের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য।
বক্তাদের আহ্বান ও উপস্থিতি
বিশেষজ্ঞরা সরকারকে কিডনি চিকিৎসা সেবাকে আরও সুলভ ও সহজলভ্য করতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এই সম্মেলন মৃত ডোনার থেকে কিডনি দানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র কনসালটেন্ট (নেফ্রোলজি) অধ্যাপক হারুন-উর-রশিদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক রুহুল আমিন রুবেল।
এতে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রাফায়েল ইন্টারন্যাশনাল ও ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক কিউরি আন, অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টমিড রিসার্চ হাব কাউন্সিলের প্রধান অধ্যাপক জেরেমি চ্যাপম্যান, দ্য ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব কোরিয়ার এমিরিটাস অধ্যাপক ইন সুং মুন এবং ড্যানভিট ফাউন্ডেশনের এমডি অধ্যাপক হি ইয়ং শিন।
সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নেফ্রোলজিস্ট, ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















