ক্রীড়া প্রতিবেদক:
মাঠের লড়াইয়ে ৩-২ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কিন্তু আলবিসেলেস্তাদের এই অবিশ্বাস্য জয়কে ছাপিয়ে ফুটবল বিশ্বে এখন প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ম্যাচটির রেফারিং। বিশেষ করে ম্যাচ চলাকালীন রেফারি ও ভিএআর (VAR)-এর দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন বইছে সমালোচনার ঝড়। খোদ মিসরের খেলোয়াড়রাও রেফারির বিরুদ্ধে স্পষ্ট পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনার পর ফুটবলপ্রেমীদের মনে বড় একটি প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে— ফিফা কি তবে নির্দিষ্ট কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে?
আটলান্টার এই রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে বিতর্ক মূলত তৈরি হয় দুটি ভিন্ন পেনাল্টি বক্সের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ম্যাচের একপর্যায়ে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে দ্বিতীয় গোলটি পেয়েছিল আফ্রিকান পরাশক্তি মিসর। কিন্তু মিসরীয়দের সেই উদযাপনের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর প্রযুক্তির চুলচেরা বিশ্লেষণে দেখা যায়, গোলটি তৈরির প্রক্রিয়া বা বিল্ড-আপের শুরুতে মিসরের এক খেলোয়াড় ফাউল করেছিলেন। ফলে অনেক নাটকীয়তার পর রেফারি মিসরের সেই গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন।
মিসরীয় শিবিরের ক্ষোভের আসল কারণ অবশ্য অন্য জায়গায়। ম্যাচের শেষ দিকে যখন আর্জেন্টিনা ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার জন্য মরিয়া, ঠিক তার আগের একটি মুহূর্তে আর্জেন্টিনার ডি-বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হন মিসরের সবচেয়ে বড় তারকা মোহাম্মদ সালাহ। সালাহসহ পুরো মিসর দল পেনাল্টির জোর দাবি তুললেও মাঠের প্রধান রেফারি তাতে পাত্তাই দেননি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মিসরের গোলের বেলায় যে ভিএআর প্রযুক্তির এতটা নিখুঁত ব্যবহার দেখা গেল, সালাহর ফাউলের দাবির সময় সেই ভিএআর রিভিউ দেখার প্রয়োজনই মনে করেননি রেফারি।
রেফারির এই ‘দ্বিমুখী নীতি’র কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ফুটবল সমর্থকেরা। নিরপেক্ষ ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, প্রযুক্তির ব্যবহার যেখানে বিতর্ক কমানোর কথা, সেখানে রেফারির এমন একপেশে সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চের ফেয়ার প্লে-কে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। মাঠের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা জিতে শেষ আটে গেলেও, রেফারিংয়ের এই বিতর্কিত অধ্যায় ফুটবল ইতিহাসে আরও দীর্ঘদিন আলোচনা-সমালোচনার খোরাক জোগাবে, তা বলাই বাহুল্য।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















