নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট:
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ দেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মো. আশরাফুল নামের এক ছাত্রদল কর্মী আ*হ*ত হয়েছেন।
গতকাল বুধবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় আর্জেন্টিনা বনাম মিসরের রোমাঞ্চকর ম্যাচ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। আহত আশরাফুলকে উদ্ধার করে সিলেট নগরীর একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা ও মিসরের মধ্যকার নকআউট পর্বের খেলা দেখানো হচ্ছিল। খেলা চলাকালীন পর্দার সামনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমানের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিসের কথা-কাটাকাটি হয়। নাফিস বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-অর্থ সম্পাদক কাফি কাওসারের বন্ধু। সে সময় উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষার্থীদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে মীমাংসা হয়ে যায়।
প্রধান ফটকে পুনরায় উত্তেজনা ও মা*রা*মা*রি
খেলা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় নাফিসের বন্ধু ছাত্রদলের সহ-অর্থ সম্পাদক কাফি কাওসার ও তাঁর অনুসারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মা*রা*মা*রি*র ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্রদল কর্মী আশরাফুল মাথায় আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
আ*হ*ত কর্মীর অভিযোগ
আ*হ*ত ছাত্রদল কর্মী আশরাফুল ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “পর্দায় খেলা দেখানোর আয়োজক ছিল আমাদের বন্ধু তারেক। নাফিস নামের ছেলেটি বারবার পর্দার সামনে চলে আসছিল। তারেক তাকে সামনে থেকে সরে যেতে বললে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে গেটে যাওয়ার পর তারেক নাফিসকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলছিল। কিন্তু সে সময় কাফি (সহ-অর্থ সম্পাদক) মদ্যপ অবস্থায় এসে তারেকের ওপর চড়াও হয়।”
তিনি আরও বলেন, “গোলাপ রেস্টুরেন্টের সামনে চিল্লাপাল্লা শুনে আমরা এগিয়ে যাই। তারেক আমাকে জানায় যে, কাফি তাকে মারতে চাইছে। আমরা পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে গেলে তারা আমাকে ধাক্কা দিয়ে দেয়ালের সামনে ফেলে দেয় এবং কিল-ঘুষি মারে। পরে বন্ধুরা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-অর্থ সম্পাদক কাফি কাওসারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে শাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক মুখলেসুর রহমান বলেন, “খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নিজেদের মধ্যে কিছুটা ঝামেলা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন আ*হত হয়েছেন। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলেছি। যেহেতু বিষয়টি ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, তাই তাদের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মাধ্যমেই বিষয়টি মীমাংসা করা হচ্ছে।”
ক্যাম্পাসে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















