জনপদের খবর
অনলাইন সংস্করণ | রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট:
দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্যের আধার সুন্দরবনে বাঘ, হরিণসহ বন্যপ্রাণী নিধন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে গেছে বন বিভাগ। সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী শিকারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ১৫০ জন চিহ্নিত শিকারির একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই তালিকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত এসব অপরাধীর ওপর এখন রাখা হচ্ছে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি।
তবে বনরক্ষীদের নজরদারি ও সাঁড়াশি অভিযান জোরদার হলেও, গহীন বনে বন্যপ্রাণী শিকার এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
বন অপরাধ কমেছে, ফিরেছে স্বস্তি
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের দাবি, গত এক বছরে বনরক্ষীদের নিয়মিত কঠোর টহল ও অভিযানের ফলে বনকেন্দ্রিক অপরাধ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এর ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বাগেরহাটের সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে নিয়মিত ফুট পেট্রোলিং (পায়ে হেঁটে টহল), নৌ-টহল ও অভিযানের কারণে আগের তুলনায় বন অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে দুর্গম ও গহীন এলাকায় অভিযান অব্যাহত থাকলেও শিকারিদের তৎপরতা পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি।
এক বছরে অভিযানের চিত্র ও বিপুল উদ্ধার
পূর্ব বন বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে বিভিন্ন ধরনের মোট ৪৭৪টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এসব অভিযানের পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:
- মামলা ও গ্রেপ্তার: ২৪১টি বন আইনের মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে ৩৯৬ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ৩৭৭ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
- ফাঁদ ও বন্যপ্রাণী উদ্ধার: সুন্দরবনের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পেতে রাখা ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৫৩ ফুট হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় সাফল্যের মধ্যে রয়েছে জীবিত অবস্থায় ১৭টি হরিণ এবং ১টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার উদ্ধার।
- জব্দকৃত মালামাল: অভিযানকালে ২৪৯ কেজি হরিণের মাংস, ৪৪৮টি ট্রলার, ১০০টি নৌকা, ৮ হাজার ৩৮১টি অবৈধ কাঁকড়া ধরার চারু এবং ৩০০ ফুট মাছ ধরার জাল জব্দ করা হয়।
- বিষ দিয়ে মাছ শিকার রোধ: বিষ দিয়ে মাছ ধরা রোধে কঠোর অভিযানে ২১৭ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির সাধারণ মাছের পাশাপাশি ৭২৪ কেজি বিষ দিয়ে ধরা মাছ, ৯৬ বোতল কীটনাশক, ৫ প্যাকেট বিষাক্ত পাউডার এবং বিষ প্রয়োগে ধরা চিংড়ি শুকিয়ে তৈরি করা ২২ বস্তা শুঁটকি জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে আহরিত ১ হাজার ৬৬ কেজি কাঁকড়াও উদ্ধার করা হয়।
ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “স্থানীয় জনগণের সার্বিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন সংস্থার গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো গেলে আগামীতে বন অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।”
বন্যপ্রাণী ও বন রক্ষায় সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার পাশাপাশি বন বিভাগকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মোঃ আল আমিন কাজী 



















