নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর কলাবাগান থানাধীন কাঁঠালবাগান ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায় একটি সাততলা ভবনের নিচতলায় সেপটিক ট্যাংকে জমে থাকা গ্যাস থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ফার্নিচার কারখানার তিন শ্রমিক মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন।
গতকাল বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধ তিন শ্রমিককে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধ শ্রমিকরা হলেন— মো. জুয়েল (২০), মো. রানা (২২) ও মো. পারভেজ (২১)। তারা তিনজনই পান্থপথ এলাকার একটি ফার্নিচার দোকানের শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাদের সবার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায়। এদের মধ্যে জুয়েলের বাবার নাম সবুজ মিয়া, রানার বাবা সোনা মিয়া এবং পারভেজের বাবা মানিক মিয়া।
দগ্ধদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা রাজিব নামের এক ব্যক্তি জানান, ঘটনার সময় ওই তিন শ্রমিক ভবনের নিচতলায় ফার্নিচারে বার্নিশের কাজ করছিলেন। হঠাৎ করেই সেপটিক ট্যাংকে দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মুহূর্তের মধ্যে সেখানে থাকা জুয়েল, রানা ও পারভেজ দগ্ধ হন। পরে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. হারুনুর রশিদ দগ্ধদের শারীরিক অবস্থার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিস্ফোরণে জুয়েলের শরীরের ৩০ শতাংশ, রানার ৬৩ শতাংশ এবং পারভেজের ২১ শতাংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জুয়েল ও রানার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, পারভেজকে বর্তমানে জরুরি বিভাগের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী তাকেও আইসিইউতে স্থানান্তর করা হতে পারে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, দীর্ঘ দিন সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার না করা এবং আবদ্ধ স্থানে গ্যাস জমে থাকার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

মোঃ আল আমিন কাজী 























